দ্য ওয়াল ব্যুরো: সুপার সাইক্লোন উমফানের পরে বিদ্যুতের কাজ করতে গিয়ে উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতে মৃত্যু হল এক যুবকের। তাঁর নাম অমল দাস (৪৫)। বাড়ি বারাসতের নবপল্লি এলাকার বিদ্যাসাগরপল্লিতে।
বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে আলো-পাখার কাজ করতেন অমল দাস। উমফানের পরে পাঁচ দিন কেটে গেলেও অনেক এলাকাতেই এখনও বিদ্যুৎ পরিষেবা চালু হয়নি। সরকারি কর্মীর অভাব থাকায় বহু জায়গায় ডাক পড়ছে অদক্ষ ও বেসরকারি শ্রমিকদের। রোজগারের আশায় তাঁরাও যে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে রাজি হয়ে যাচ্ছেন তার প্রমাণ মিলল অমলের মৃত্যুতে। সোমবার স্থানীয় পিজিবাগানের নন্দনকানন লেনে বিদ্যুতের খুঁটিতে কাজ করছিলেন অমল। হঠাৎ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তিনি ছিটকে পড়েন। দ্রুত তাঁকে বারাসত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
উমফানের তাণ্ডবে বারাসতের অনেক জায়গাতেই বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটেছে। পিজিবাগানেও তাই। ঈদের দিনে অন্ধকার হয়ে রয়েছে অনেক এলাকা। এই অবস্থায় স্থানীয় ইলেকট্রিশিয়ানদের দিয়ে অনেকে কাজ করিয়ে নিচ্ছেন। হাই-টেনশন তারে কাজ করার ব্যাপারে অদক্ষ হলেও অনেকেই বাড়তি রোজগারের আশায় বিপদের ঝুঁকি নিয়ে এই কাজে রাজি হয়ে যাচ্ছেন। তারই মাসুল দিতে হল অমল দাসকে।
বিভিন্ন টুকিটাকি বিদ্যুৎ সংক্রান্ত কাজ বেসরকারি কর্মীরা করছেন। এরকম একটি কাজে সামান্য অসতর্কতার মাসুল দিতে হল অমল দাসকে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন বিদ্যুতের খুঁটি থেকে ছিটকে পড়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান অমল দাস। পুলিশ তাঁর দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়ে দিয়েছে।
এই ভাবে স্থানীয় যুবকের মৃত্যু হওয়ায় এলাকার শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কার বা কাদের কথায় তিনি ওই কাজ করতে গিয়েছিলেন তা এখনও জানা যায়নি। পুলিশ এব্যাপারে তদন্ত শুরু করেছে।