দ্য ওয়াল ব্যুরো: হাতে টাকা শেষ এদিকে খাবারও পাচ্ছেন না। তাই লকডাউনের মধ্যে ওড়িশার ভুবনেশ্বর থেকে হেঁটেই মুর্শিদাবাদে ফিরছেন একদল যুবক। লকডাউন শুরু হওয়ার কিছুদিন পর থেকেই দেখা যাচ্ছে যে ভিনরাজ্যে কাজ করতে যাওয়া শ্রমিকরা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন। তাঁরা কাজ পাচ্ছেন না বলে আয় বন্ধ। যেটুকু যা জমানো ছিল সব শেষ। অন্য রাজ্যে থাকায় রেশন পাওয়াও মুশকিল হচ্ছে তাঁদের।
রাস্তায় গাড়ি নেই, ট্রেন আগেই বন্ধ হয়েছে। এই অবস্থায় রসদ ফুরিয়ে আসায় অন্য কোনও উপায় না পেয়ে হেঁটে বাড়ির দিকে রওনা হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন ওই যুবকরা। মুর্শিদাবাদ জেলার জিয়াগঞ্জের সেলিম শেখ, শেখ রিয়াজ সহ আট শ্রমিক গত চারদিন ধরে ভুবনেশ্বর থেকে দীর্ঘ পথ হেঁটে এসে পৌঁছেছেন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায়। আজ শনিবার সকালে উড়িষ্যা থেকে হেঁটে আসা ওই যুবকদের মেদিনীপুর শহরের ট্রাফিক পুলিশের কর্তব্যরত কর্মীরা আটকান। তারপরে প্রশাসনিক স্তরে যোগাযোগ করার পরে স্বাস্থ্য দফতরের লোকজন স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন উড়িষ্যা থেকে আগত ওই যুবকদের। প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার পরে মেদিনীপুর শহরের কাছে পাঁচখুরি এলাকায় একটি সরকারি কোয়ারান্টাইন সেন্টারে আগামী চোদ্দো দিন তাঁদের রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
লকডাউন উঠলে তাঁদেরকে প্রশাসনিক ভাবে নিজেদের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
এর আগে মহারাষ্ট্রের কয়েক জন শ্রমিককে খড়্গপুর বাড়িতে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছিল জেলা পুলিশ। বহু শ্রমিককে সহায়তা করেছেন জেলার বিভিন্ন থানার পুলিশকর্মীরা।
লকডাউন হওয়ার পরে ওই শ্রমিকরা চেষ্টা করেন ভুবনেশ্বরেও কোনও রকমে থেকে যেতে। তাছাড়া ট্রেন বন্ধ থাকায় ফেরার উপায়ও ছিল না। কিন্তু কোনও ভাবেই আর সেখানে থাকা সম্ভব না হওয়ায় অবশেষে তাঁরা সিদ্ধান্ত নেন হেঁটে ফেরার। অভিবাসী শ্রমিকদের পথে কেউ আশ্রয়ও দেয়নি করোনা সংক্রমণের শঙ্কায়। তাই এতটা রাস্তা তাঁরা পার হয়েছেন কার্যত খালি পেটেই।