দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব মেদিনীপুর: করোনা আক্রান্তে মৃত্যু হওয়া ব্যক্তির দেহ পরিবারের হাতে তুলে দিতে চাইছে এগরা হাসপাতাল। এমন অভিযোগই করছেন মৃতের আত্মীয়রা। তাঁরা বলেছেন, যদি হাসপাতাল থেকে লিখে দেয় যে করোনায় ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়নি তবেই তাঁরা দেহ নেবেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও মৃতের আত্মীয়দের এই টানাপোড়েনে তিন দিন ধরে হাসপাতালেই পড়ে রয়েছে বছর আটচল্লিশের এক ব্যক্তির দেহ।
মৃতের পরিবারের অভিযোগ, মৃতদেহ সৎকারের জন্য মৃতের পরিবারকে দেহ নিয়ে যাওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। দেহ না নিলে ডেথ সার্টিফিকেট তো নয়ই, অন্য কোনও নথিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দেবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে। এই অবস্থায় মৃতের পরিবারের লোকজন জানাচ্ছেন, করোনা নেগেটিভ কাগজপত্র দিলে তবেই তাঁরা দেহ বাড়ি নিয়ে যাবেন। তা না হলে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী দাহ করা হোক।
পরিবারের আরও অভিযোগ, প্রশাসন থেকে নাকি তাঁদের জানানো হয়েছে যে তারা সৎকার করবে কিন্তু দাহ করার জন্য প্রয়োজনীয় কাঠ কিনে দিতে হবে মৃতের পরিবারকে। এতে নাকি তাঁরা রাজি হয়েছিলেন। যথা সময়ে কাঠও জোগাড় করে ফেলেছিলেন। কিন্তু হাসপাতালের তরফে কোনও সহযোগিতা না পাওয়ায় দেহ সেখানেই রয়েছে। মৃতের পরিবার জানিয়েছে, দেহ নিয়ে তাঁরা গ্রামে গেলে গ্রামবাসীদের রোষে পড়তে হতে পারে। অন্য নানা সামাজিক সমস্যাতেও পড়তে হতে পারে। তবে অভিযোগ নিয়ে কোনও কথা বলতে চায়নি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
পূর্ব মেদিনীপুরের এগরা থানার ভাটদা গ্রামের বাসিন্দা অমিত জানা (৪৮) কলকাতার যাদবপুরে একটি নামী মিষ্টির দোকানের কর্মী ছিলেন। গত ৪ অগস্ট বিকেলে কলকতা থেকে একটি প্রাইভেট গাড়ি করে এগরায় আসেন। পরের দিন বিকেল থেকে জ্বর, সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। বাড়িতে প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু হয়। পরিস্থিতির অবনতি হলে ৬ অগস্ট সকাল ৮টা নাগাদ তাঁকে এগরা সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়। বিকাল ৫টায় পরিবারের কাছে মৃত্যু সংবাদ আসে। মৃতের বাড়ির লোক মৃত্যুর কারণ জানতে চাইলে হাসপাতালের তরফ থেকে জানানো হয় তিনি করোনায় ভুগে মারা গেছেন। পরিবারের দাবি এটাই।
রাতে মৃতের পরিবারকে হাসপাতাল থেকে বলা হয় দেহ বাড়িতে নিয়ে যেতে। এ কথা শুনে ভয় পেয়ে যান তাঁর আত্মীয় পরিজন। তাঁরা জানান করোনায় মৃতের দেহ সৎকার করার জন্য বাড়িতে নিয়ে গেলে গ্রামবাসীরা ঢুকতে দেবে না। তখন হাসপাতাল থেকেও ক্রমাগত চাপ দেওয়া হতে থাকে। বাড়ির লোকেরা ডেথ সাটিফিকেট চাইতে গেলে হাসপাতাল থেকে নাকি বলা হয়, দেহ না নিলে কোনও কাগজপত্র দেওয়া সম্ভব নয়।
এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মহকুমাশাসক অপ্রতিম ঘোষ সেই উত্তর না দিয়ে লকডাউনে বাড়িতে থাকার পরামর্শ দেন সাংবাদিককে। যদিও নিয়ম অনুযায়ী লকডাউনে ছাড় দেওয়া হয়েছে সংবাদমাধ্যমকে।