দ্য ওয়াল ব্যুরো: চিটফাণ্ড কাণ্ডে সিবিআই-এর পাশাপাশি এ বার এক এক করে তলব করতে শুরু করল কেন্দ্রীয় সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট তথা ইডি। প্রাক্তন মন্ত্রী শোভন চট্টোপাধ্যায়ের স্ত্রী রত্না চট্টোপাধ্যায় এবং রাজ্যের ক্রেতা সুরক্ষামন্ত্রী সাধন পাণ্ডের মেয়ে শ্রেয়া পাণ্ডেকে নোটিস পাটিয়েছে ইডি। অন্য দিকে হাইকোর্টের নির্দেশ মতো সিবিআই-এর হেফাজতে নিজের পাসপোর্ট জমা দিলেন কলকাতার প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমার।
এর আগেও রত্না এবং শ্রেয়াকে তলব করেছিল ইডি। প্রসঙ্গত শোভন চট্টোপাধ্যায়কে জেরা করার পরই রত্নাকে তলব করে ইডি। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে এই দাকা শুরু হয়েছিল। কিন্তু সেই সময়ে রত্না ছিলেন ইংল্যান্ডে। চিকিৎসার জন্য বিলেতে গিয়েছিলেন তিনি। ফেরার পর, গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে রত্না যান ইডি দফতরে। রত্নাদেবী জানিয়েছেন, “আমার কিছু কাগজপত্র অফিসারদের দেওয়ার কথা ছিল। বেশ কিছু ওঁদের হাতে ইতিমধ্যেই দিয়েছি। আরও দুটি কাগজ দেওয়ার আছে। ভোটের মধ্যে ব্যস্ততায় দিয়ে আসতে পারেনি। ১৭ জুনের মধ্যে সেগুলি জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। আমি গিয়ে দিয়ে আসব।”
সাধন-কন্যা শ্রেয়ার ব্যাপারটা অন্য। বেশ কিছু অভিযুক্তকে তিনি ‘ম্যানেজ’ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। গোয়েন্দাদের জেরার মুখে শ্রেয়ার নাম নাকি একাধিকজন বলেছেন বলে জানা গিয়েছে। এর আগেও গতবার বিশ্বকর্মা পুজোর সময় শ্রেয়াকে ডেকেছিল ইডি। ফের তাঁকে তলব করেছে এই কেন্দ্রীয় সংস্থা। তবে শ্রেয়া কবে যাচ্ছেন সে ব্যাপারে কিছু জানা যায়নি।”
সুপ্রিম কোর্ট এবং বারাসত আদালতে ধাক্কা খাওয়ার পর হাফ ডজন শর্ত সাপেক্ষে পুলিশকর্তা রাজীব কুমারকে সাময়িক রক্ষাকবচ দিয়েছে হাইকোর্ট। সেই শর্তে বলা হয়েছিল রাজীব কুমারের পাসপোর্ট জমা রাখতে হবে সিবিআইয়ের কাছে। সেই মতো শুক্রবার সন্ধে বেলা রাজীব কুমারের প্রতিনিধি গিয়ে সিবিআই কর্তাদের হাতে পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। সব মিলিয়ে ভোটের পর চিটফাণ্ড তদন্ত নতুন উদ্যোমে শুরু হয়েছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।