দ্য ওয়াল ব্যুরো, পশ্চিম বর্ধমান: রানিগঞ্জের বাঁশড়া এলাকার অবৈধ খনি ভরাট করতে শুক্রবার সকাল থেকেই তৎপর হল ইস্টার্ন কোল ফিল্ডস (ইসিএল) কর্তৃপক্ষ। এ ব্যাপারে তাদের সহায়তা করে পুলিশ প্রশাসন। অবৈধ খনি ভরাট নিয়ে বৃহস্পতিবার এজেন্ট অফিসে গ্রামবাসীরা বিক্ষোভ দেখান। তার পরেই নড়েচড়ে বলে খনি কর্তৃপক্ষ।
রানিগঞ্জের কুনুস্তোড়িয়া এরিয়ার বাঁশড়া কোলিয়ারির এজেন্ট কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার গ্রামবাসীরা বিক্ষোভ দেখান। বাঁশড়া গ্রামের বাসিন্দাদের অভিযোগ ওই এলাকায় বহু অবৈধ খনি গজিয়ে উঠেছে। বিক্ষোভের পরের দিনই অর্থাৎ আজ শুক্রবার অবৈধ খাদান ভরাট অভিযানে নামে ইসিএল খনি কর্তৃপক্ষ। এদিন ইসিএলের নিরাপত্তা রক্ষী, সিআইএসএফ এবং পুলিশ প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে বাঁশড়া গ্রামের শেষপ্রান্তে গজিয়ে ওঠা অবৈধ খনি ভরাট করা শুরু হয়।
গ্রামে গিয়ে কর্তৃপক্ষ দেখে ওই এলাকায় অন্তত ২২টি খোলামুখ খনি তৈরি হয়েছে। সেগুলি ভরাট করতে দু’টি মাটি কাটার যন্ত্রের (আর্থ মুভার) সাহায্য নেওয়া হয়।
এই অংশে অবৈধ খনি গড়ে ওঠার জেরে বিস্তীর্ণ এলাকার বাড়িঘরে ফাটল তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন গ্রামবাসীরা। বাইরে থেকে অনেক লোকজন এখানে এসে অসামাজিক কাজকর্ম শুরু করে দিয়েছে বলে তাঁরা জানান। এই এলাকাটি ইসিএলের নিয়ন্ত্রণে থাকার জন্য তাঁরা বারবার ইসিএল কর্তৃপক্ষের কাছে এ ব্যাপারে দরবার করেছেন। এই খনিগুলি বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন কিন্তু তাতে ইসিএল কোনও পদক্ষেপ করেনি বলে অভিযোগ। তাই বৃহস্পতিবার তাঁরা বিক্ষোভ দেখান।
এদিনের বিশেষ অভিযানে ইসিএলের আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা জানান, অবৈধ কয়লাখনিগুলি চলার জেরে বৈধ কয়লা খনিতেও সমস্যা তৈরি হতে পারত। কারণ কী ভাবে ওই অবৈধ কয়লাখনিগুলি থেকে কয়লা কেটে বের করা হচ্ছে সে ব্যাপারে কারও কাছেই কোনও তথ্য নেই। অদূরেই ইসিএলের বাঁশড়ায় ভূগর্ভস্থ খনি রয়েছে। অবৈধ ভাবে কয়লা কাটার জেরে সেই খনিটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারে বলে অনুমান করেছেন খনি আধিকারিকরা। খনি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে আগামী দিনেও এই ধরনের অভিযান চালিয়ে যাবেন তাঁরা।
অনেকে বলেন এখানকার রাজনীতি, অর্থনীতি ও প্রশাসন সবটাই কয়লা নিয়ে। বেআইনি কয়লা তোলা তাই এখন সংক্রমণের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। একটা গ্রামে তাই ২২টি অবৈধ খোলামুখ খনি তৈরি হয়েছে। বাড়ছে কয়লা মাফিয়াদের দাপটও। অভিযোগ, এই সব দেখেও হাত গুটিয়ে বসে রয়েছে আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট।