দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ভূমিকা বদলে ফেললেন মন্ত্রী। রেশন ডিলারের বিরুদ্ধে একরাশ অভিযোগ নিয়ে বুধবারই দেখা করতে গিয়েছিলেন জেলাশাসকের সঙ্গে। উগরে দিয়েছিলেন ক্ষোভ-রাগ। বৃহস্পতিবার খাদ্যমন্ত্রীর পাশে বসে সেই স্বপন দেবনাথের গলায় সম্পূর্ণ অন্য সুর। সাংবাদিকদের উপর এতটাই রেগে গিয়েছিলেন স্বপনবাবু, যে তাঁকে ঠান্ডা করতে খাদ্যমন্ত্রীকে বারবার বলতে শোনা যায়, ‘‘মেজাজ হারিও না। মাথা ঠান্ডা কর।’’
বুধবার রেশনে বেনিয়মের অভিযোগ নিয়ে পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক বিজয় ভারতীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ। মন্ত্রীর অভিযোগ ছিল রেশনে কারচুপি হচ্ছে। শুধু তাই নয়, তিনি নিজেই এক রেশন ডিলারের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানান। তিনি জেলাশাসককে বলেন বর্ধমান শহরের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের রেশন ডিলার অধীর কুমার দে উপভোক্তারা গেলে তাঁদের ফিরিয়ে দিচ্ছে। বলা হচ্ছে রেশনের মাল আসেনি। মহকুমা শাসককেও বিষয়টি জানিয়েছেন তিনি। মন্ত্রীর আরও অভিযোগ ছিল, রেশনে যে বাটখারা ব্যবহার করা হচ্ছে তা সঠিক নয়। রেশন ডিলাররা কেন ডিজিটাল ওয়েট মেশিন ব্যবহার করছেন না প্রশ্ন তোলেন তা নিয়ে।
গত দু'সপ্তাহে জেলার গলসি, আউশগ্রাম, খণ্ডঘোষ ও মেমারিতে রেশন ব্যবস্থা নিয়ে দফায় দফায় বিক্ষোভ দেখায় স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে খণ্ডঘোষের আমরাল গ্রামের এক রেশন ডিলারকে পুলিশ গ্রেফতারও করে। পাশাপাশি রেশন কার্ড নিয়েও অভিযোগের অন্ত নেই। দু'দিন আগে জেলা খাদ্য দফতরের সামনে বিক্ষোভও দেখায় একদল উপভোক্তা। মন্ত্রীও জেলাশাসকের কাছে অভিযোগ করায় এতদিন ধরে উপভোক্তারা যে অভিযোগ করছিলেন তা কার্যত সত্যি প্রমাণিত হয়।
কিন্তু রাত পোহাতেই আজ ভোল বদলে ফেললেন মন্ত্রী। এ দিন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক পূর্ব বর্ধমানে আসেন। জেলাশাসকের সঙ্গে রেশন বিলি নিয়ে বৈঠক করেন। এরপরেই একগুছ্ছ পরিকল্পনার কথা জানান। খাদ্যমন্ত্রীর পাশে বসা স্বপনবাবুর কিন্তু এ দিন অন্য রূপ। আদ্যন্তই ছিলেন চড়া মেজাজে। আক্রমণের লক্ষ্য ছিলেন সংবাদমাধ্যমের কর্মীরা। বলতে থাকেন, ‘‘খালি রেশনে ঝামেলার কথা বলছেন, বিক্ষোভের কথা বলছেন। এত লোককে বিনামূল্যে খাবার তুলে দেওয়া হচ্ছে সেটা বলছেন না তো।’’
স্বপনবাবুর রাগ সামলাতে বেশ কয়েকবার উদ্যোগী হতে হল জ্যোতিপ্রিয়বাবুকে।