দ্য ওয়াল ব্যুরো: সন্তানের মৃত্যু সংবাদ পাওয়ার পরেও বাড়ি ফিরতে পারছিলেন না লকডাউনের জেরে পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ায় আটকে পরা বিহারের অনিতা দেবী। তাঁকে ফেরানোর ব্যবস্থা করতে চেয়ে পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসকের কাছে আবেদন করেন কাটোয়ার পুরপ্রধান। জেলাশাসকের চেষ্টাতেই কাটোয়ার মহকুমাশাসক গাড়ি করে অনিতা দেবী ও তার এক আত্মীয়া প্রমীলা দেবীকে বিহারের মুঙ্গেরে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।
মুঙ্গেরের তাড়ি গ্রামের বাড়িতে গত ৭ এপ্রিল অনিতা দেবীর কিশোরী কন্যা আরতি কুমারীর (১৫) মৃত্যু হয়। অনিতা দেবী মনে করেন, ‘মা কবে বাড়ি ফিরবে’ এই চিন্তায় অসুস্থ হয়েই তাঁর মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। অনিতা দেবীর স্বামী দেবানন্দ কুমার কাজের জন্য গিয়ে হরিয়ানায় আটকে আছেন। বড় মেয়ে আরতি কুমারীর মৃত্যুর পরে অনিতা দেবীর বাড়িতে দুই নাবালক অসহায় অবস্থায় রয়েছে। মানবিক কারণেই পূর্ব বর্ধমান জেলা প্রশাসন বিহারের মুঙ্গেরের জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে দুই মহিলাকে তাঁদের বাড়িতে ফেরানোর ব্যবস্থা করল।
লকডাউনের জেরে বিহারের ১৬০ জন শ্রমিক কাটোয়া স্টেশন চত্বরে আটকে পড়েছিলেন। তাঁরা কাটোয়ায় আসার পরে ট্রেন বন্ধ হয়ে যায়। দেশজুড়ে শুরু হয় লকডাউন। প্রশাসন ও পুরসভার উদ্যোগে কাটোয়া নিয়ন্ত্রিত বাজার কমিটির ছাউনিতে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। খাবারেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে।