দ্য ওয়াল ব্যুরো, দুর্গাপুর: করোনার প্রতিষেধক বা ভ্যাকসিন পরীক্ষার করার জন্য দুর্গাপুরের চিরঞ্জিত ধীবরকে ডেকে পাঠাল ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ বা আইসিএমআর। আগামী সপ্তাহে তাঁকে ওড়িশায় যেতে হবে। করোনার টিকা তাঁর শরীরে প্রথম যাতে প্রয়োগ করা হয় সেই আবেদন জানিয়ে ছিলেন চিরঞ্জিত৷ তাতেই সাড়া দিয়েছে আইসিএমআর।
দুর্গাপুরের বাসিন্দা চিরঞ্জিৎ ধীবর পেশায় একটি প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক। এপ্রিল মাসের শেষের দিকে লিখিত ভাবে তিনি আইসিএমআর-কে জানিয়ে ছিলেন, জীবনের ঝুঁকি থাকলেও করোনার টিকা পরীক্ষামূলক ভাবে প্রয়োগের জন্য নিজের শরীর তিনি উৎসর্গ করতে চান। একই সঙ্গে এ কথা জানিয়েছিলেন দুর্গাপুরের মহকুমাশাসক, পশ্চিম বর্ধমানের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক এবং কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধনের কাছে। এত দিনে সেই আবেদনের উত্তর পেলেন তিনি।
দিন দুয়েক আগে আইসিএমআর-এর তরফ থেকে তাঁর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হয়। তাঁকে এজন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়। করোনার সঙ্গে যুদ্ধে জয়ী হতে সারা বিশ্ব চাইছে যত দ্রুত সম্ভব প্রতিষেধক তৈরি করতে। ভারতও চেষ্টার ত্রুটি করছে না। প্রতিষেধক আবিষ্কার করা হলে প্রথমে অন্য কোনও প্রাণীর শরীরে তা প্রয়োগ করা হয়। পরে মানুষের শরীরে প্রয়োগ করে দেখা হয়। সেক্ষেত্রে জীবনের ঝুঁকি থেকে যায়। তবে তাতে ভয় না পেয়ে দেশ ও দশের স্বার্থে পরীক্ষামূলক ভাবে প্রতিষেধক নিজের শরীরে প্রয়োগ করার ব্যাপারে ইচ্ছা প্রকাশ করেন চিরঞ্জিৎ। তিনি বলেন, “জীবনের ঝুঁকি আছে জানি তবে দেশের জন্য প্রাণ দিতে আমি রাজি। যাঁরা সীমান্তে দাঁড়িয়ে আমাদের জন্য প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে পাহারা দিচ্ছেন তাঁরা যেমন দেশের সেবা করতে পেরে গর্বিত তেমন আজ আমিও গর্বিত। প্রথম দিকে মা-বাবা কিছুটা বাধা দিয়েছিলেন কিন্তু তাঁদের আমি বোঝাতে পেরেছি।”
চিরঞ্জিতের বাবা তপনকুমার ধীবর দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার একজন কর্মী। তাঁর মা প্রতিমা ধীবর গৃহবধূ। ছোট ভাই অমরজিৎ ধীবর কলকাতার একটি কলেজে পড়াশোনা করেন। প্রতিমা ধীবর বলেন, "আমি জানি ঝুঁকি আছে। করোনায় বহু মানুষ মারা গেছেন। আমরা চাইছি দেশের মঙ্গল হোক। মানুষের মঙ্গল হোক। যে কাজে মানুষের মঙ্গল হবে সেই কাজে আমার ছেলের কোনও বিপদ আসবে না, ওর কোনও ক্ষতি হবে না – এটাই আমার বিশ্বাস।"
সমস্যা একটা রয়েছে। এই কাজের জন্য ছ’বার তাঁকে ওড়িশায় যেতে হবে এবং সেটি নিজের খরচে। তাই বিধায়ক ও সাংসদদের কাছে এই বিষয়ে আর্থিক সাহায্য চেয়েছেন তিনি।