দ্য ওয়াল ব্যুরো: লক ডাউনের মধ্যে বাংলাদেশে পাটের বীজ নিয়ে যাওয়া ৬১টি ট্রাকের চালক ও খালাসি আটকে বাংলাদেশে। এনিয়ে তীব্র বাদানুবাদ শুরু হয়েছে পুলিশ ও প্রশাসনের মধ্যে। আটকে পড়া চালক খালাসিদের জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সব রকমের সাহায্য করা হচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
করোনার আশঙ্কার মধ্যেই টানা দশ দিন বাংলাদেশে আটকে মেখলিগঞ্জের চ্যাংরাবান্ধার ৬১টি ট্রাকের চালক ও খালাসি। তাঁদের অনেকেই এখন আর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ পর্যন্ত করতে পারছেন না। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পরেও হঠাৎ সীমান্তের গেট খুলে লক ডাউনের মধ্যে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের আন্তর্জাতিক চেক পোস্ট দিয়ে পাটের বীজ বোঝাই ৬১টি ট্রাক বাংলাদেশে যায়। এখানেই উঠেছে বড়সড় প্রশ্ন। যদি সীমান্ত সিল থাকে তবে কি করে ৬১টি ট্রাক পাটের বীজ নিয়ে বাংলাদেশে গেল। পরের দিনই দিন সেই ট্রাক ফিরে আসার কথা। তা না হওয়ায় পরের দিন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন উত্তরবঙ্গের তিন জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ আধিকারিক ও জেলা পুলিশ সুপাররা।
ট্রাকগুলি বাংলাদেশে গিয়ে আটকে পড়ায় চিন্তায় চালকদের পরিবার। সম্প্রতি স্থানীয় কাস্টমস সুপারিন্টেন্ডেন্টকে ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান বাংলাদেশের ভেতরে আটকে পড়া ট্রাক ড্রাইভার ও খালাসিদের পরিবারের লোকজন। তাতে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। শুল্ক দফতরের আধিকারিকরা চেষ্টা করে যাচ্ছেন ওই ট্রাকগুলিকে দেশে ফেরানোর কিন্তু কোনও সুরাহা বের হয়নি বলে কাস্টমস সূত্রে খবর।
ট্রাক চালকদের পরিবারগুলির থেকে জানা গেছে যে বাংলাদেশে যাওয়ার দু’-তিন দিন পরই চালকদের মোবাইল ফোন বন্ধ হয়ে যায়। তাঁদের সঙ্গে কোনও ভাবেই পরিবারের লোকজন যোগাযোগ করতে পারছেন না। ফলে উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন তাঁরা।
এই পাটবীজের কনসাইনমেন্ট কী করে বাংলাদেশ গেল এবং তার নির্দেশ কে দিয়েছে সেসব খতিয়ে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় পুলিশের উপরে দোষ চাপিয়ে দায় ঝেড়ে ফেলা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে বিভিন্ন মহলে। স্থানীয় মানুষ থেকে ট্রাক ড্রাইভার ও শ্রমিকরা সেই সময় সীমান্ত খুলে পাটের বীজ বাংলাদেশে পাঠানোর তীব্র বিরোধিতা করলেও সীমান্ত খুলে ৬১টি ট্রাক যায় বাংলাদেশে।
কোচবিহার জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক জানান যে সীমান্ত খোলার কোনও অধিকার তাঁদের নেই তবে আটকে পড়া ট্রাকের ড্রাইভারদের সব সময় খোঁজ খবর করা হচ্ছে প্রশাসনের তরফে। তাঁদের খাবার ও ওষুধের যাবতীয় ব্যবস্থা সেদেশের আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলে করা হচ্ছে। পাশাপাশি তাঁদের কাউন্সেলিং করা হচ্ছে। বাংলাদেশের দিকের জেলা লালমণিহাটের জেলাশাসকের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেই সব করা হচ্ছে বলে জানা গেছে প্রশাসনের তরফে।
দেশের অন্য সব সীমান্ত বন্ধ থাকলেও গত ৪ এপ্রিল কোচবিহারের চ্যাংরাবান্ধায় ভারত ও বাংলাদেশের সীমান্ত খুলে দেওয়া হয়। পাটের বীজ বাংলাদেশে পাঠানোর জন্য সীমান্ত খুলেছে বলে জানা যায়। এজন্য পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল এলাকায়। কোচবিহারে জেলাশাসক পবন কাদিয়ান তখন জানিয়েছিলেন যে পাটের বীজ বাংলাদেশে পাঠানোর ব্যাপারে নির্দেশ এসেছে। সেই কারণেই গাড়িগুলি বাংলাদেশে যাচ্ছে।
করোনার সংক্রমণ যাতে ছড়িয়ে না পড়ে সেজন্য তখন পাটবীজের লরিগুলিকে বাংলাদেশ যেতে বাধা দিয়েছিলেন স্থানীয় লরিচালকরা। তাঁদের বক্তব্য, যাঁরা লরি নিয়ে যাবেন তাঁরা যদি কোনও ভাবে বাংলাদেশ থেকে সংক্রমণ নিয়ে আসেন তখন এদেশে তাঁদের মধ্যেও নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাঁদের অসন্তোষ আটকাতেই সীমান্তে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।