দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনাভাইরাস মোকাবিলায় আপৎকালীন প্রয়োজনে ডাক্তারি ও নার্সিং ইন্টার্নদের সব ছুটি বাতিল হলেও মেসবাড়ি থেকে তাঁদের কার্যত বের করে দেওয়ায় অনেকেই বাড়িতে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছেন। কল্যাণীর একটি হাসপাতালের এক ইন্টার্ন টেলিফেনে দ্য ওয়ালকে জানিয়েছেন যে এক ঘণ্টার নোটিসে তাঁকে বের করে দেওয়া হয়েছে মেসবাড়ি থেকে। তবে তিনি একা নন তাঁর পরিচিত অন্তত দশ-জনের একই অবস্থা বলে তিনি অভিযোগ করেছেন।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে লোকাল ট্রেন বন্ধ করে দেওয়ার ঠিক আগের ঘটনা। কল্যাণীতে একটি মেসে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন ছাত্রীর সঙ্গে পেয়িং গেস্ট হিসাবে থাকেন পুরুলিয়ার এক তরুণী যিনি পেশায় ইন্টার্ন। তিনি বলেন, “আমাকে মেসের মালিক বলেন বাড়ি ছেড়ে দিতে। আমি তাঁকে জানাই যে অন্যরা ছুটি পেলেও আমাদের সব ছুটি বাতিল করা হয়েছে। তাই আমাকে থাকতেই হবে। তখন উনি খুব বাজে ভাবেই আমাকে বলেন যে আমার জন্য ওঁরা অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন। যেন ওঁরা আগে কোনও দিন কেউ অসুস্থ হননি কিন্তু আমি থাকলে অসুস্থ হয়ে পড়বেন এক্ষুণি। ওঁর বাড়ির লোক যাচ্ছেন-আসছেন। তাতে কোনও সমস্যা ওঁদের হচ্ছে না।... আমি পুরুলিয়াতে থাকি এবং ট্রেন বন্ধ হয়ে যাবে জেনে এক ঘণ্টার মধ্যে আমাকে মেস ছেড়ে দিতে হয়। পরে কলেজে মিটিং ডেকে জানতে চাওয়া হয়েছে ইন্টার্নরা কেন অনেকেই অনুপস্থিত।”
তিনি জানিয়েছেন যে এব্যাপারে অনেকে তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছেন ফোন করে ও মেসেজ করে। তবে আপাতত সেই মেসেই থাকতে হবে বলে তিনি নিজের তো বটেই মেস মালিকের নামও প্রকাশ করতে চাইছেন না। ফিরে গিয়ে তাঁকে অন্য মেসবাড়ির সন্ধান করতে হতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
বর্ধমানে একটি শিশু হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত বেশ কয়েকজনকে এদিন হয় হাসপাতালে ছাড়তে না হয় আবাসন ছাড়তে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন চিকিৎসক মহল।