দ্য ওয়াল ব্যুরো: দক্ষিণ দিনাজপুরে জেলা শাসকের অফিসের আরও পাঁচ জন করোনায় আক্রান্ত হলেন। আক্রান্তদের মধ্যে চার জন কর্মী এবং এক জন ডব্লিউবিসিএস অফিসার রয়েছেন বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর। জেলায় নতুন করে আরও ৬০ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।
এদিন জেলাশাসকের দফতর বন্ধ ছিল। শনিবার রাজ্যে লকডাউন। রবিবার সাপ্তাহিক ছুটি। জেলাশাসক নিখিল নির্মল জানিয়েছেন আগামী সপ্তাহে চার দিন বন্ধ রাখা হবে তাঁর অফিস। অর্থাৎ বুধবার ২২ জুলাই এক দিনের জন্য চলতি সপ্তাহে অফিস খোলা হয়েছিল। তারপরে আগামী সপ্তাহে আবার শুক্রবার অফিস খোলা হবে।
দফরের এক কর্মীর করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসতেই সংক্রমণ রুখতে গত সোমবার ও মঙ্গলবার দু’দিন জেলাশাসকের দফতর স্যানিটাইজ করা হয়। তখন বাইরে থেকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি জেলাশাসকের দফতরের বাকি কর্মীদের কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছিল। বুধবার অফিস খোলা হয়। বৃহস্পতিবার রাজ্য জুড়ে লকডাউন ছিল। নতুন করে পাঁচ জন আক্রান্ত হওয়ায় ফের অফিস বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সর্বশেষ সরকারি হিসাবে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৬৯। যদিও আক্রান্তদের মধ্যে ৪৫৪ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। জেলায় করোনায় মৃত্যু হয়েছে পাঁচ জনের। করোনা পজিটিভের সংখ্যা ৪১০।
জেলা প্রশাসন থেকে দেওয়া রিপোর্ট অনুযায়ী বালুরঘাট পুরসভা এলাকা এ কুমারগঞ্জ ব্লকে আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। ২৩ জুলাইয়ের হিসাব অনুযায়ী জেলায় মোট কন্টেনমেন্ট জোনের সংখ্যা ৪৫টি। এখন হোম আইসোলেশনে রয়েছেন ২৪৭ জন। প্রশাসন প্রেস বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে জেলায় প্রতি দশ লক্ষে ৭,৭৬১ জনের সোয়াব পরীক্ষা করা হচ্ছে। পজিটিভিটি রেট ৬ শতাংশ।
রাজ্যে আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমাগত বেড়ে চলায় ও গোষ্ঠী সংক্রমণ শুরু হওয়ায় তা রুখতে সপ্তাহে দু’দিন করে লকডাউন করার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে রাজ্য সরকার। বর্তমানে কোয়ারেন্টাইন এলাকাগুলিতে লকডাউন চলছে। দক্ষিণ দিনাজপুরের তিনটি পুর এলাকাতেই আংশিক লকডাউন চলছে। তার পরেও করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসার বদলে তা বেড়েই চলেছে। জেলায় বহু লোক এখনও সচেতন না হওয়ার জন্যই তা হচ্ছে বলে মনে করছে প্রশাসন। এখনও লোকে সামাজিক দূরত্বের বিধি মানছেন না। মাস্কও ব্যবহার করছেন না অনেকে। জেলার বাজারগুলিতেও ভিড় উপচে পড়ছে। ফলে চিন্তা বাড়ছে জেলা প্রশাসনের।