দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা প্রতিরোধে গোমূত্র পান করানোকে খোলাখুলি সমর্থন জানিয়েছিলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। কারা করোনা আক্রান্ত হচ্ছেন তা নিয়ে শনিবার ফের ‘আজগুবি’ মন্তব্য করে বসলেন মেদিনীপুরের সাংসদ। তাঁর মহার্ঘ তত্ত্ব দুটি। এক, শনির প্রকোপে করোনা সংক্রমণ হচ্ছে। দুই, যারা বেশি পিৎজা-পাস্তা বেশি খায়, তাদেরই করোনা হয়।
প্রবাসী বাঙালিদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের জন্য এদিন একটি ওয়েবসাইটের সূচনা করেন দিলীপ ঘোষ। ‘দিলীপ ঘোষ ডট অনলাইন’ নামক এই ওয়েবসাইটে অন্য রাজ্য বা অন্য দেশে থাকা বাঙালিরা দিলীপবাবুর কর্মসূচি সম্পর্কে সব তথ্য জানতে পারবেন। ওই ওয়েব সাইটে থাকবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কর্মসূচিও। ওই অনুষ্ঠানেই করোনা নিয়ে একাধিক মন্তব্য করেন দিলীপ ঘোষ।
মেদিনীপুরের সাংসদ বলেন, শনির প্রকোপেই এই মহামারী। কবে সবচেয়ে বেশি প্রকোপ ফেলবে করোনা, কবেই বা থামবে এই মহামারী, তারও দিনক্ষণ বলে দেন দিলীপবাবু। তাঁর কথায়, “পুরাণে ভাইরাসের কথা বলা হয়েছে। শনির যে বছর প্রকোপ বাড়ে তখন এধরনের মহামারি হয়। দুমাস এর প্রকোপ বেশি থাকবে। তিন-চার মাসের মধ্যে ঠান্ডা হয়ে যাবে। ২৫ মার্চ প্রকোপ সবচেয়ে বেশি হবে।” সেই সঙ্গে অভিভাবকদের উদ্দেশে তাঁর পরামর্শ, “বেশি আধুনিক খাবার খাইয়ে ছেলে-মেয়েদের সর্বনাশ করবেন না।”
নিম পাতার রস-সহ প্রাকৃতিক উপাদানের উপর জোর দিতে বলেন দিলীপ। তাঁর কথায়, “এই প্রাকৃতিক উপাদানই আমাদের ভারতীয় সংস্কৃতি, আমাদের পরম্পরা।”
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীদের ভিডিও কনফারেন্সে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি জানিয়েছিলেন, আন্তর্জাতিক বিমান পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়ার জন্য। এদিন তা নিয়ে মমতার নাম না করে আক্রমণ শানান দিলীপ। তিনি বলেন, “বিমান পরিষেবা বন্ধ করে দিলেই সমস্যার সমাধান হবে না। বিদেশে থাকা এদেশের নাগরিকদের সেখানে ফেলে রাখতে পারি না। যারা একথা বলছেন তাদের আমলাই তো আদরের ছেলেকে ঢুকিয়ে নিয়ে চলে এসেছেন।”
দিলীপবাবুর এই ধরনের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তৃণমূলের এক শীর্ষ সারির নেতা বলেন, “গোটা দেশ মহা সঙ্কটে রয়েছে। সবাই এখন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে দিলীপবাবু যদি একটু কম কথা বলেন তাহলেই মানুষের মঙ্গল হবে।