দ্য ওয়াল ব্যুরো: কয়েকদিন আগেই জেল থেকে ছাড়া পেয়েছেন ছত্রধর মাহাতো। ফিরেছেন জঙ্গলমহলেও। বুধবার জলপাইগুড়ির মিছিল থেকে তাই নিয়েই তৃণমূলের বিরুদ্ধে চড়া সুরে আক্রমণ শানালেন বিজেপির রাজ্যসভাপতি দিলীপ ঘোষ। এদিন মেদিনীপুরের সাংসদ বলেন, “মাওবাদীদের জেল থেকে ছেড়ে দিয়ে ভোট জেতার পরিকল্পনা করছে তৃণমূল। কিন্তু কোনও মাওবাদীই দিদিকে ভোটে জেতাতে পারবে না।”
ছত্রধর মাহাতো তৃণমূলে যোগ দিতে পারেন বলেও শোনা যাচ্ছে। কয়েকদিন ঝাড়গ্রামের কটেজে একদা ডাকসাইটে জনসাধারণের কমিটির নেতার সঙ্গে দেড়ঘণ্টা রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়। পরে এব্যাপারে পার্থবাবু বলেছিলেন, “ছত্রধর তৃণমূলে যোগ দিলে আমি খুশিই হব।” এদিন ওই ঘটনা টেনেই শাসকদলের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন দিলীপ।
জলপাইগুড়ির শান্তি পাড়া থেকে বেলা আড়াইটে নাগাদ মিছিল শুরু করে সারা শহর ঘুরে বিকেল ৪টে নাগাদ পাণ্ডাপাড়া পার্ক মোড় এলাকায় এই মিছিল শেষ হয়।
বুধবার দুপুরে বাঁকুড়ার প্রশাসনিক সভায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারি আধিকারিক থেকে জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশে ধমকের সুরে বলেন, “কন্ট্রাক্টরদের কন্ট্রোল করুন। ভাগ নেওয়া বন্ধ করুন।” সারেঙ্গায় আস্ত জলের ট্যাঙ্ক ভেঙে পড়া নিয়েও তোপ দাগেন দিদি। সেই প্রসঙ্গে বিজেপির রাজ্য সভাপতি বলেন, “দিদির আমলে তৈরী সমস্ত নির্মাণের নমুনা পরীক্ষা হোক। শুধু জলের ট্যাঙ্ক বা উড়ালপুল নয়। যে কোনও সময় যে কোনও নির্মাণ ভেঙে পড়তে পারে।”
তৃণমূলের ভোট স্ট্র্যাটেজিস্ট প্রশান্ত কিশোরের বিরুদ্ধেও আক্রমণ করেন দিলীপ ঘোষ। বলেন, “পিকে দিদির মাসতুতো ভাই। নিজের ভাইদের উপর ভরসা নেই। তাই বিহার থেকে মাসতুতো ভাই কে আমদানী করেছেন।” দিল্লির ফলাফল নিয়ে তৃণমূলের উল্লাস নিয়ে মেদিনীপুরের সাংসদের কটাক্ষ, “অবোধের গোবধে আনন্দ।”
যদিও দিলীপের এই মন্তব্য নিয়ে তৃণমূলের এক মুখপাত্র বলেন, “আসলে দিল্লির ফল দেখে দিলীপ ঘোষের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। ওখানে মোদী, অমিত শাহদের সমস্ত আস্ফালনকে জনগণ আস্তাকুঁড়ে ছুড়ে ফেলেছে। বাংলাতে বিজেপির তার থেকেও খারাপ পরিণতি হবে।”