দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুক্রবার খড়্গপুরে কার্যত কন্ট্রোল রুম খুলে ঘূর্ণিঝড় ফণীর বিপর্যয় মোকাবিলায় বসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপরেই রাজ্যের তরফে অভিযোগ করা হয়, কেন্দ্রের তরফে যোগাযোগ করা হয়নি। তাই যা ব্যবস্থা করতে হয়েছে, সব রাজ্যকেই। রাজ্য সরকারকে ফোন না করে সরাসরি রাজ্যপালকে ফোন করে যুক্তরাষ্ট্রীয় ন্যায়–নীতি লঙ্ঘন করেছেন মোদী, এই অভিযোগ তোলা হয় তৃণমূলের পক্ষ থেকে। রবিবার রাজ্যের দাবি খারিজ করে পিএমও জানিয়ে দেয়, দু'বার ফোন করেও মমতার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। সোমবার পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুকের সভা থেকে সেই প্রসঙ্গ তুলে এনে মমতাকে আক্রমণ করলেন মোদী। তিনি বলেন, দিদির এত দম্ভ, যে দু'বার ফোন করার পরেও তিনি ফোন ধরেননি। কিন্তু তারপরেও রাজ্যকে সবরকম সাহায্যের জন্য প্রস্তুত কেন্দ্র।
এ দিনের সভা থেকে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে করা তৃণমূলের অভিযোগ উড়িয়ে মোদী বলেন, "রাজ্য বলছে, আমি যোগাযোগ করিনি। আমি দু'বার ফোন করেছিলাম। কিন্তু মমতার এত দম্ভ, এত অহঙ্কার, তিনি ফোন ধরেননি।" এরপরে সোমবার রাজ্যের সঙ্গে মোদীর যে বৈঠকের কথা ছিল, সেটাও তুলে আনেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, "আমি আজকেও রাজ্যের সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলাম। রাজ্য প্রশাসনের কাছ থেকে সবটা বুঝতে চেয়েছিলাম। কিন্তু স্পিডব্রেকার দিদি সেটা হতে দেয়নি।" তিনি অভিযোগ করেন, ঘূর্ণিঝড়ের মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয় নিয়েও রাজনীতি করছেন মমতা। তবে এত কিছুর পরেও যে কেন্দ্র রাজ্যকে সম্পূর্ণভাবে সাহায্য করবে, সেই আশ্বাসও দেন মোদী।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের বক্তব্য, ফণী হওয়ার পর থেকে যে নির্বাচনী সভায় মমতা গিয়েছেন, সেখানেই নিজের কৃতিত্বের কথা বলেছেন। এই বিপর্যয় মোকাবিলার জন্য রাজ্য সরকার ও প্রশাসন যেভাবে প্রস্তুত ছিল, তার খতিয়ান দিয়েছেন। উল্টোদিকে তৃণমূলের তরফে এটা বোঝানোর চেষ্টা হয়েছে, এই বিপর্যয়ের সময় হাত গুটিয়ে বসে ছিল কেন্দ্র। কোনও রকমের সাহায্য তো আসেইনি, বরং মমতাকে টপকে রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠীর সঙ্গে যোগাযোগ করে যুক্তরাষ্ট্রীয় ন্যায়-নীতি লঙ্ঘন করেছেন মোদী। তাই এ দিনের সভায় রাজ্যের সেই দাবিকে নস্যাৎ করে মোদী বোঝানোর চেষ্টা করলেন, সব বিষয়কে রাজনীতির মধ্যে টেনে আনছেন মমতা। মোদী বোঝাতে চাইলেন, কেন্দ্রের ফোন না ধরে একদিকে যেমন নিজের অহঙ্কারি মনোভাবের পরিচয় দেখাচ্ছেন মোদী, তেমনই রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে কেন্দ্রকে দুষে সাধারণ মানুষকে ভুলও বোঝাচ্ছেন। উল্টোদিকে সাধারণ মানুষের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে মানুষের মন জয় করার চেষ্টাতেও কোনও কসুর রাখলেন না তিনি।
বিতর্কটি শুরু হয় মোদীর করা একটি টুইটকে কেন্দ্র করে। সেই টুইটে মোদী রাজ্যপালের সঙ্গে তাঁর আলোচনার বিষয়টির উল্লেখ করেন। রাজ্যের ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যের বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ না করে রাজ্যপালের কাছ থেকে খবর নেওয়া 'যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর ওপর আক্রমণ এবং সংবিধান থেকে বিচ্যুতি’ বলে তৃণমূলের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে সমালোচনা করা হয়। রাজ্যপালের সঙ্গে যোগাযোগ করে নরেন্দ্র মোদী ভারতীয় জনতা পার্টির সদস্য হিসেবে আচরণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয় এই অভিযোগ তুলে তৃণমূল রাজনৈতিক আক্রমণ শানায় মোদী তথা বিজেপি’র বিরুদ্ধে। প্রধানমন্ত্রী কী ভাবে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে এড়িয়ে রাজ্যের পরিস্থিতি জানার জন্য রাজ্যপালের সঙ্গে যোগাযোগ করলেন তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তৃণমূলের মহাসচিব তথা রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর আরও অভিযোগ, নরেন্দ্র মোদী ওড়িশার উদ্ধার ও ত্রাণ ব্যবস্থার খবর নেওয়ার জন্য সে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারলেন অথচ পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে তাঁকে ফোন করতে হল রাজ্যপালকে।
তারপরেই প্রধানমন্ত্রী দফতরের তরফে জানানো হয়, ঘূর্ণি ঝড় আক্রান্ত জেলাগুলিতে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যের বিষয়ে খবরাখবর নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়। উদ্দেশ্য ছিল রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কথা বলিয়ে দেওয়া। পরপর দু’বারের চেষ্টাই ব্যর্থ হয় কারণ দু'বারই প্রধানমন্ত্রীর দফতরকে জানানো হয় যে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই ফোন করে নেবেন। তার মধ্যে একবার বলা হয়, মুখ্যমন্ত্রী সফরে রয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে অগত্যা প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠী’র সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় এবং রাজ্যপালের কাছ থেকে নরেন্দ্র মোদী রাজ্যের সাম্প্রতিক অবস্থার খোঁজখবর নেন।
আরও পড়ুন
https://www.four.suk.1wp.in/mamata-banerjee-says-she-is-not-interested-to-talk-with-an-ex-prime-minister/