দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৃহস্পতিবার সকালে ডায়মন্ড হারবারে ১১৭ নম্বর জাতীয় সড়কে ধস নেমে একাংশ তলিয়ে গিয়েছিল হুগলি নদীতে। তার ফলে কলকাতার সঙ্গে দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার বিস্তীর্ণ অঞ্চল বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। পুরোপুরি থমকে গেছে কাকদ্বীপ-নামখানা-ডায়মন্ডহারবার রুটের যান চলাচল। আচমকা নদীর গ্রাসে রাস্তা চলে যাওয়ায় রীতিমতো আতঙ্কিত ডায়মন্ডহারবারের বাসিন্দারা। কিন্তু রীতিমতো যুদ্ধকালীন ক্ষিপ্রতায় শুক্রবারের মধ্যে মেরামত করে দিয়ে প্রায় স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে দিল তৃণমূল সরকার।
ডায়মন্ড হারবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লোকসভা নির্বাচন কেন্দ্র। বৃহস্পতিবার সড়ক ধসে যেতেই সিপিএমের পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী বলেছিলেন, নদীর পাড়ে ঝুলন্ত উদ্যান বানাতে গিয়েই কি এই বিপত্তি হল? নাকি এ ধরনের নির্মাণের জন্য যে কারিগরি পারদর্শিতা থাকার প্রয়োজন তা না থাকার কারণেই এ রকম হল? এমনকী এ ঘটনার সঙ্গে কাটমানি-রোগের কোনও সম্পর্ক রয়েছে কিনা সে বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার প্রাক্তন সিপিএম জেলা সম্পাদক।
ডায়মন্ড হারবারের নদীর তীরের সৌন্দর্যায়ন প্রকল্পে হাত দিয়েছিলেন অভিষেক। কথাগুলো যে তাঁকে খোঁচা দিয়ে সুজনবাবু বলেছেন, তা তাঁর হয়তো বুঝতে অসুবিধা হয়নি। তাই পাল্টা টুইট করে জবাব দিয়েছিলেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। বলেছিলেন, আমি কথা দিচ্ছি চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে মেরামত করে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে দেব। তার পর আপনি বরং একবার সময় করে এসে ঘুরে যাবেন। তার পর ছবি তুলে পোস্ট করে আপনার অনুগামীদের দেখাবেন।
যেমন কথা তেমন কাজ। বৃহস্পতিবার থেকেই কাজে নেমে পড়েছিল পূর্ত দফতর। নদী পাড়ে বাঁধ দিয়ে, তার পর সেখানে ভাঙা ইট ফেলে রাস্তা সমান করে রাতারাতি পিচও ঢেলে দেওয়া হয়। তার পর ওই রাস্তার ছবি এ দিন দুপুরের পর থেকে সোশাল মিডিয়ায় ছড়াতে শুরু করে দেন অভিষেকের অনুগামীরা।
পরে জেলা শাসক পি উলগানাথন বলেন, শুক্রবার বিকেল থেকে হাল্কা গাড়ি চলাচল করবে। আগামী পনেরো দিনের মধ্যে গোটা কাজটা শেষ করা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি জানান, এ দিন সেচ ও পূর্ত দফতরের চিফ ইঞ্চিনিয়ার ও প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি এ ব্যাপারে বৈঠক করেছেন। স্থায়ী সমাধানের ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। এও ঠিক হয়েছে পনেরো দিন অন্তর গোটা এলাকা পরিদর্শন করে দেখা হবে। অফিসারদের নিজেদের মধ্যে একটা হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপ তৈরির কথাও হয়েছে। তাঁর কথায়, মূলত জোয়ারের জলের ধাক্কাতেই এই বিপত্তি হয়েছে। আগামী দিনে এমন আশঙ্কার কথা মাথায় রেখেই নদীর পাড় বাঁধানোর কাজ হবে।
এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে সুজন বাবু বলেন, “স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসাটা ভাল খবর। কিন্তু যে প্রশ্নগুলো করেছিলাম তার জবাব পেলাম কি? তাঁর কথায়, ডায়মন্ড হারবারে যে গতিতে কাজ হল, আশা করব রাজ্যের অন্যত্র এ ধরনের কোনও বিপর্যয় হলে তেমনই ক্ষিপ্রতার সঙ্গে যেন কাজ হয়। মনে না হয় যে বাংলায় ডায়মন্ড হারবারের স্পেশাল স্টেটাস রয়েছে। বাকিরা ভেসে এসেছে বানের জলে”।