দ্য ওয়াল ব্যুরোঃ ফের করোনার হানা স্বাস্থ্যভবনে। এবার করোনা আক্রান্ত হলেন স্বাস্থ্যভবনের এক শীর্ষ আধিকারিক। স্বাস্থ্যভবনের ডিরেক্টর অফ হেলথ সার্ভিসেস অজয় চক্রবর্তী আক্রান্ত হয়েছেন করোনাভাইরাসে। আক্রান্ত হয়েছেন আধিকারিকের স্ত্রীও।
স্বাস্থ্যভবন সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই শরীরে অস্বস্তি অনুভিব করেন অজয় চক্রবর্তী। তারপরেই র্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট করান তিনি। তাতে তাঁর রিপোর্ট পজিটিভ আসে। তারপরে ফের তাঁর নমুনা আরটি-পিসিআর টেস্টের জন্য পাঠানো হয়েছে। আপাতত হোম আইসোলেশনেই রয়েছেন অজয় চক্রবর্তী। তাঁর শারীরিক অবস্থা দেখে পরবর্তী পরামর্শ দেবেন ডাক্তাররা।
জানা গিয়েছে, করোনা আক্রান্ত হয়েছেন অজয়বাবুর স্ত্রীও। আপাতত এমআর বাঙ্গুর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন তিনি। অজয়বাবুর করোনা আক্রান্ত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই আতঙ্ক ছড়ায় স্বাস্থ্যভবনে। গত কয়েক দিনে যাঁরা যাঁরা তাঁর সংস্পর্শে এসেছিলেন তাঁদেরও করোনা পরীক্ষা করে দেখা হবে বলে জানা গিয়েছে।
এর আগেও স্বাস্থ্যভবনে করোনার হানা দেখা গিয়েছে। শুধু কলকাতায় নয়, বিভিন্ন জেলায় স্বাস্থ্যের কাজে যুক্ত আধিকারিকদের মধ্যেও সংক্রমণ ছড়িয়েছে। করোনার বিরুদ্ধে সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে লড়াই করছেন তাঁরা। তাই তাঁদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়ায় চিন্তা বেড়েছে প্রশাসনের।
রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা ক্রমেই আক্রান্ত হচ্ছেন করোনাভাইরাসে। সম্প্রতি কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের ৩৮ জন চিকিৎসক করোনা আক্রান্ত হয়েছেন বলে খবর। তাঁদের মধ্যে ২৬ জন পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ট্রেনি বা পিজিটি চিকিৎসক। বাকি ১২ জন ফ্যাকাল্টি অর্থাৎ শিক্ষক চিকিৎসক। তাঁরা প্রত্যেকেই করোনা চিকিৎসায় যুক্ত ছিলেন। এভাবে একসঙ্গে ৩৮ জন চিকিৎসক করোনা আক্রান্ত হওয়ায় বড় বিপর্যয়ের মুখে মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের পরিষেবা।
জানা গিয়েছে, রোগী পরিষেবা যাতে চালু থাকে তার জন্য স্বাস্থ্য দফতরে চিঠি দিয়েছেন কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের অধ্যক্ষ মঞ্জু বন্দ্যোপাধ্যায়। চিঠিতে তিনি আর্জি জানিয়েছেন, পরিষেবা চালু রাখতে হলে চিকিৎসক দরকার। তাই মেডিক্যাল কলেজে জরুরি ভিত্তিতে যেন চিকিৎসক পাঠানো হয়, এমনটাই আর্জি জানিয়েছেন তিনি।
সূত্রের খবর, মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষের এই আর্জি মেনে নিয়েছে স্বাস্থ্য ভবন। শিগগির মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসক পাঠানো হবে। স্বাস্থ্য দফতরের এক কর্তা জানিয়েছেন, মেডিক্যাল কলেজ থেকে চিঠি এসেছে। স্বাস্থ্য ভবনের তরফে চিকিৎসক পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তারমধ্যে এবার স্বাস্থ্য ভবনেরই এক শীর্ষ আধিকারিক করোনা আক্রান্ত হলেন।