দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘মমতা বিনা গীত নাই!’
আজ ২৫ ডিসেম্বর বড়দিনের দিনই জন্মেছিলেন প্রয়াত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী। সেই উপলক্ষে রাজভবনে তাঁর একটি তৈলচিত্র উন্মোচন হবে। কিন্তু সেখানেও রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়ের মুখে সেই ‘মমতা’! অবশ্যই উৎসবের পরিবেশেও সংঘাতের মেজাজ জিইয়েই রাখল রাজভবন।
এদিনও সাংবাদিক বৈঠক করেন রাজ্যপাল। তার পর বলেন, “অটলজির ছবি উন্মোচনের জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে ডাকা হয়েছিল। কিন্তু তিনি সাড়া দেননি।”
এখানেই থামেননি ধনকড়। তিনি বলেন, “আমি ব্যক্তিগত ভাবে জানি ২০০১-২০০৪ পর্যন্ত বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর রাজনৈতিক কেরিয়ারে অটলজির অনেক অবদান ছিল।”
মমতাকে যে বাজপেয়ী স্নেহ করতেন তা সর্বজনবিদিত। বাজপেয়ী জমানায় মমতা রেলমন্ত্রী, কয়লামন্ত্রী এমনকি দফতরবিহীন মন্ত্রীও ছিলেন। কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতেও এসেছিলেন বাজপেয়ী।
তবে দিদিও কিন্তু বাজপেয়ীর সঙ্গে তাঁর সখ্যের কথা অস্বীকার করেন না। বরং বিজেপির এখনকার নেতাদের থেকে বাজপেয়ী, আডবাণীরা যে কতটা আলাদা ছিলেন তা বোঝানোর চেষ্টা করেন। বুধবারও টুইট করে মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, “বাজপেয়ী ছিলেন রাষ্ট্রনেতা। যিনি দলীয় রাজনীতির ঊর্দ্ধে উঠে দেশের কথা চিন্তা করতেন। আমরা ভীষণ ভাবে তাঁকে মিস করছি।”
এদিন রাজ্যপালের কথা শুনে অনেকেই বলছেন, সংঘাতকে জিইয়ে রাখতেই তিনি এদিনের এই মন্তব্য করেছেন। যেদিন থেকে জগদীপ ধনকড় বাংলার রাজ্যপালের দায়িত্ব নিয়েছেন সেদিন থেকেই সংঘাত চলছে। তবে এও ঠিক, তালি বাজছে দু’হাতেই! কারণ রাজ্যপাল যেমন অতিশয় সক্রিয়, তেমনই শাসক দল ও সরকার বহু বিষয়ে সাংবিধানিক ব্যবস্থার যে তোয়াক্কা করছে না সেও বাস্তব। প্রদেশ কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী যে শঠে শাঠ্যংকে গতকাল ‘সার্কাস’ বলে মন্তব্য করেছেন।
এদিন ধনকড়ের কথা শুনে তৃণমূল নেতারা বলছেন, রাজ্যপাল প্রলাপ বকছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেরিয়ারে অটলবিহারী বাজপেয়ীর কী ভূমিকা তা দিদি নিজে মুখেই বলেন। ওঁর কাছ থেকে সেই কথা রাজ্যের মানুষ নতুন করে জানবে না। ধনকড়ের বাজপেয়ী বন্দনায় যতটা না আবেগ রয়েছে, তার বেশি রয়েছে রাজনীতি। সেটাও বুঝতে পারছেন সবাই।