দ্য ওয়াল ব্যুরো: লকডাউনের শুরু থেকেই কাজ নেই কেশপুরের মহিষদা গ্রামের বিক্রম অধিকারীর। বাসের কন্ডাক্টর বিক্রমের সংসার চলছিল জমানো টাকায়। কিন্তু তাও ফুরিয়েছে এই সময়ে। এরপর এই পার্টি সেই পার্টির কাছে তদবির করলেও মেলেনি সাহায্য। শেষপর্যন্ত সিপিএমের কর্মীরা গিয়ে চাল, আটা, আলু, তেল দিয়ে এলেন বিক্রম অধিকারীর বাড়িতে।
বিক্রম আর কেউ নন, অভিনেতা তথা ঘাটালের সাংসদ দেবের কাকার ছেলে। বিক্রমের বাবা প্রয়াত বিষ্ণুপদ অধিকারী দেবের ছোট কাকা। বিক্রমরা যেখানে থাকেন সেটাই দেবের পৈতৃক ভিটে। গত দু'বার ভোটে দেখা গিয়েছে এই বাড়িতে এসেই কাকিমা, জেঠিমাদের পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করে প্রচার শুরু করছেন দেব।
বিক্রম জানিয়েছেন, তৃণমূলের কাছে চাল, আলু চাইতে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু পাশে দাঁড়ায়নি শাসকদল। তিনি বলেন, "কারও কাছে কিছু না পেয়ে সিপিএম পার্টির লোকেদের গিয়ে বলি, ওঁরা এসে চাল, আলু, আটা, তেল দিয়ে গেছেন।"
বৃদ্ধা মা, স্ত্রী, দুই সন্তানকে নিয়ে চরম সংকটের মধ্যে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন বিক্রম। তিনি এও জানিয়েছেন, অঞ্চল অফিস, পঞ্চায়েত দফতরে সাহায্য চেয়েও পাননি। তাঁর কথায়, "মায়ের বিধবা ও বার্ধক্য ভাতার জন্য ফর্ম ফিলাপ করেছিলাম। কই কিছুই তো আসেনি!"
সিপিএমের জেলা সম্পাদক তরুণ রায় বলেন, "আমাদের সীমিত সামর্থ্যের মধ্যে যতটুকু পারছি মানুষকে সাহায্য করছি। দেবের ভাই হিসেবে নয়। ওই পরিবারকে আমাদের কর্মীরা ত্রাণ পৌঁছে দিয়েছে তাঁর কারণ ওঁরা আর্থিক ভাবে একেবারেই পিছিয়ে পড়া।"
যদিও কেশপুরের তৃণমূল বিধায়ক শিউলি সাহা বলেন, "উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে সিপিএমের উস্কানিতে এসব বলেছেন।" তাঁর কথায়, "যিনি অভিযোগ করছেন তৃণমূল ত্রাণ দেয়নি, তিনি কি স্থানীয় স্তরে দলের কাউকে বলেছেন? আমি খোঁজ নিয়েছি কাউকে বলেননি। একজনও লোক নেই তৃণমূলের কাছে খাবার চেয়েছেন অথচ পাননি।"