দ্য ওয়াল ব্যুরো: বলবিন্দর সিংয়ের পাগড়ি খুলে নেওয়া কাণ্ডে জল যে এত দূর গড়াবে তা কে জানত!
বিজেপির নবান্ন অভিযানে বলবিন্দর সিং নামের এক শিখ যুবকের পাগড়ি 'খুলে নেওয়ার' ঘটনায় ইতিমধ্যেই তোলপাড় হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া। প্রাক্তন ক্রিকেটার হরভজন সিং থেকে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী অমরেন্দ্র সিং—মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে বলেছেন, এই ঘটনায় ব্যবস্থা নিক বাংলার সরকার। তবে রবিবার তা ভিন্ন মাত্রা পেয়ে গেল। শিখ সম্প্রদায়ের গুরুদ্বারাগুলির পরিচালন ও ব্যবস্থাপনার জন্য সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান হল প্রবন্ধন কমিটি। পাগড়ি কাণ্ডে প্রতিবাদ জানাতে দিল্লির গুরুদ্বারা প্রবন্ধন কমিটির এক প্রতিনিধি দল কলকাতায় পৌঁছেছে। হাওড়া থানায় গিয়ে এ ঘটনায় বিহিত চেয়ে তদন্তের দাবি করতে চলেছেন তাঁরা।
কয়েক মাস বাদেই বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে শিখ সম্প্রদায়ের এই অসন্তোষ স্বাভাবিক ভাবেই উদ্বেগ তৈরি করেছে শাসক দলের মধ্যে। বিশেষ করে ভবানীপুর সহ গোটা কলকাতা এবং আসানসোল, শিলিগুড়ির মতো শহরে নির্ণায়ক শিখ ভোট রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রবিবার রাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক একটি বিবৃতি দিয়ে বলেছে, একটি বিক্ষিপ্ত ঘটনাকে বিকৃত করে প্রচার করা হচ্ছে। এক ব্যক্তির কাছে বেআইনি অস্ত্র ছিল বলে পুলিশ আইন অনুযায়ী কাজ করেছে। সেটা কেবলই বিক্ষিপ্ত ঘটনা। বাংলায় শিখ ভাই বোনেরা শান্তি ও সম্প্রীতির পরিবেশে আনন্দের সঙ্গেই রয়েছে। শিখ সম্প্রদায়ের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রয়েছে সরকারের। কিন্তু ওই ঘটনাকে একটি রাজনৈতিক দল বিভেদের রাজনীতি করতে চাইছে।
তৃণমূলের আশঙ্কা বাংলায় গুরুদ্বারা প্রবন্ধন কমিটির প্রতিনিধি দল পাঠানোর নেপথ্যে বিজেপির ইন্ধন রয়েছে।
এদিকে রবিবার সকালে দিল্লি থেকে কলকাতায় পৌঁছে গিয়েছে দিল্লির শিখ প্রতিনিধি দল। তাঁরা বিমানবন্দর থেকে সোজা পৌঁছে গিয়েছেন হাওড়া থানায়। তারপর তাঁরা যাবেন রাজভবনে রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়ের সঙ্গে দেখা করতে।
নবান্ন অভিযানে কী হয়েছিল?
বিজেপির নবান্ন অভিযানে যাঁর কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছিল সেটি বলবিন্দর সিং নামের এক যুবকের। তিনি পাঞ্জাবের বাসিন্দা। ব্যারাকপুরের বিজেপি নেতা প্রিয়াঙ্গুর সিংয়ের দেহরক্ষী তিনি।
পরে একটি ভিডিও ভাইরাল হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। তাতে দেখা যায় এই যুবকের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি হচ্ছে। এবং সেই সময়ে তাঁর মাথায় বাঁধা পাগড়ি খুলে যাচ্ছে। এই নিয়েই শিখ সমাজে আলোড়ন পড়ে গিয়েছে।
বন্দুক বিতর্কে বিজেপির তরফে বলা হয় সেটির লাইসেন্স আছে। পরে হাওড়া সিটি পুলিশ বলে, লাইসেন্স জম্মু ও কাশ্মীরের রাজৌরি সেক্টরের। নিয়মানুযায়ী ওই জেলার বাইরে আসার কথা নয়।
কিন্তু বন্দুক বিতর্ক ছাপিয়ে এখন পাগড়ি খুলে দেওয়ার বিতর্ক উস্কে গিয়েছে। তাৎপর্যপূর্ণ হল, এর আগে হরভজন সিংহ বা অমরেন্দ্র সিংহ যখন ঘটনাটি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন, তখনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি সরকার। কিন্তু গুরুদ্বারা কমিটি কলকাতায় পৌঁছনোর পর শাসক দলের উদ্বেগ বেড়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ, সামগ্রিক ভাবে শিখ সম্প্রদায়ের মধ্যে কমিটির প্রভাব অবিসংবাদিত।