দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফণীতে লণ্ডভণ্ড ওড়িশার বিস্তীর্ণ এলাকা। বাদ যায়নি বাংলাও। পূর্ব মেদিনীপুর ও পশ্চিম মেদিনীপুরের একাধিক গ্রামে দানবীয় ছাপ রেখে গিয়েছে এই ঘূর্ণিঝড়। ভেঙেছে বাড়ি। কৃষিতেও বিরাট ক্ষতির আশঙ্কা। কিন্তু ফণী পরবর্তী পরিস্থিতিতে ত্রাণ এবং উদ্ধার কাজ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়ক বৈঠক করলেও, নবান্ন এড়াল সেই বৈঠক।
ওড়িশা থেকে কলাইকুন্ডাতে এসে রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করতে চেয়েছিলেন মোদী। কিন্তু রাজ্যের তরফে কেউ না যাওয়ায় সেই বৈঠক হলই না। যদিও নবান্ন সূত্রের দাবি, মুখ্য সচিবকে কিছু জানানোই হয়নি এ ব্যাপারে। দ্য ওয়াল-এর পক্ষ থেকে রাজ্যের মুখ্য সচিব মলয় দে-র সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন তোলেননি।
পর্যবেক্ষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয় যেটা করা উচিত, প্রধানমন্ত্রী সেটাই করেছেন। প্রাকৃতিক বিপর্যয় হলে এটাই দস্তুর। তাঁদের মতে, দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং বিধ্বস্ত এলাকা পুনর্গঠনের জন্য কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয় করেই কাজ করতে হয়। কিন্তু বাংলার ক্ষেত্রে তা হল না। পূর্ব মেদিনীপুরের কয়েক হাজার মানুষ ভিটে ছাড়া হয়েছিলেন ওই রাতে। নিয়ে রাখা হয়েছিল জেলার স্কুলবাড়িগুলিতে। ভেঙেছে বাড়ি, ক্ষতি হয়েছে বিঘের পর বিঘে পানের বোরজের। প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে না যাওয়ার পিছনে রাজনৈতিক ইগোকেই দায়ী করছেন অনেকে।
এর মধ্যে ফণীর পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নরেন্দ্র মোদী দু’বার ফোন করেছিলেন বলে পিএমও-র তরফে জানানো হয়। কিন্তু একবারও মুখ্যমন্ত্রী কথা বলেননি বলে অভিযোগ। সোমবার তমলুকের জনসভায় দাঁড়িয়ে সেই কথা আরও একবার বলেন মোদী।
এ দিন আকাশ পথে ওড়িশার পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানেই ছিলেন নবীন পট্টনায়ক এবং ওড়িশার রাজ্যপাল গনেশাই লাল। দুর্গত মানুষদের উদ্ধার এবং ত্রাণের ক্ষেত্রে বিজেডি সরকার যে ভূমিকা নিয়েছে, তারও ভূয়সী প্রশংসা করেন মোদী।
অতীতে আয়লার সময় তৎকালীন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ছুটে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং-এর কাছে। দাবি জানিয়েছিলেন আয়লাকে জাতীয় বিপর্যয় ঘোষণা করে বাংলার জন্য বিশেষ আর্থিক প্যাকেজ দিক দিল্লি। গত বছর কেরলের বিধ্বংসী বন্যার সময়েও বাম সরকারের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন একাধিক বৈঠক করেছিলেন মোদীর সঙ্গে। বাংলার বিজেপি নেতাদের বক্তব্য, এটাই মমতার ঘৃণ্য রাজনীতি। মানুষ মরছে মরুক। তাঁর ইগোটাই শেষ কথা।