দ্য ওয়াল ব্যুরো, কাটোয়া: মাধ্যমিকে ৭০০-র মধ্যে ৬৬০ নম্বর পেয়েছেন কাটোয়ার দীপা পাল। বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করে ডাক্তার হতে চান তবে সেই স্বপ্ন পূরণ হবে কিনা তা নিয়ে এখন থেকে প্রশ্ন জেগেছে তাঁর মনে। তাঁর পরিবারের মনে। স্বপ্ন পূরণে বাধা হয়ে দাঁড়াবে না তো অভাব? আদৌ ভর্তি হতে পারবেন তো উচ্চমাধ্যমিকে?
কাটোয়ার মহিষী দেবী উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী দীপা পাল। থাকেন কাটোয়া পুরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডে। এ বারের মাধ্যমিক পরীক্ষায় তিনি দারুণ ফল করেছেন। উচ্চমাধ্যমিকে তিনি বিজ্ঞান নিয়ে ভর্তি হতে চান।
বাবা, মা ও এক ভাইকে নিয়ে দীপাদের ছোট্ট সংসার। অভাব তাঁদের সংসারের নিত্য সঙ্গী। বাবা দিলীপ পাল কাটোয়ার কাছারি রোডে একটি লন্ড্রির দোকানে কাজ করেন। মা সুজিতা পাল খবরের কাগজ কিনে কাগজের ঠোঙা তৈরি করেন। সেই ঠোঙা দোকানে দোকানে গিয়ে বিক্রি করেন। পড়াশোনার ফাঁকে ঠোঙা তৈরিতে মাকে নিয়মিত ভাবে সাহায্য করেন দীপা।
করোনার জেরে লকডাউনের সময় বন্ধ ছিল লন্ড্রির দোকান। দোকান বন্ধ থাকায় তাঁর বাবার রোজগারও বন্ধ ছিল। তখন মায়ের ঠোঙা বিক্রির পয়সায় চলত সংসার। লকডাউন শিথিল হওয়ায় লন্ড্রিটি আবার খুলেছে। সেখানে কাজ করে তাঁর বাবা এখন সপ্তাহে ৫০০ টাকা করে মাইনে পাচ্ছেন। ঠোঙা বিক্রি করে দিনে ২০ থেকে ৩০ টাকা রোজগার করেন তাঁর মা। এই রোজগারে সংসারে দুবেলা দুমুঠো ভাতের জোগাড় করাই দুঃসাধ্য হয়ে ওঠে তাঁদের। সেখানে আবার পড়াশোনার খরচা! ডাক্তারি পড়ানো তো অনেক দূরের কথা এখন মেয়েকে আদৌ উচ্চমাধ্যমিকের জন্য স্কুলে ভর্তি করবেন কিনা সেকথা ভাবছেন দীপার মা-বাবা।
ভালো ফল করেও কি শেষ পর্যন্ত মাধ্যমিকেই থমকে যাবে এই মেধাবী ছাত্রীর স্বপ্ন? সেই প্রশ্নের উত্তর তাঁদের জানা নেই। সরকারি নানা বৃত্তি রয়েছে ঠিকই কিন্তু তার জন্য কী করতে হয়, কার কাছে যেতে হয় সে সবও তাঁদের জানা নেই। এখন কেউ যদি কোনও ভাবে তাঁকে পথ দেখান, আর্থিক ভাবে পাশে দাঁড়ান তবে আপাতত উচ্চমাধ্যমিকে বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা শুরু করতে পারেন দীপা।
স্কুলে ভর্তিই তো সব নয়। বিজ্ঞান নিয়ে পড়ার খরচ অনেক। বই, খাতার দাম তো আছেই তার সঙ্গে রয়েছে প্র্যাক্টিক্যাল করার খরচ। সে সব নিয়েও ভাবতে হচ্ছে দীপাকে।