দ্য ওয়াল ব্যুরো, হাওড়া: চালে ও ডালে পোকা থাকার অভিযোগে ডোমজুড়ের এক অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে বিক্ষোভ দেখালেন অভিভাবকরা এমনকি তাঁরা তালাও ঝুলিয়ে দেন সেই কেন্দ্রে। এলাকা সূত্রে জানা গেছে, ডোমজুড়ের মুসলিম পাড়ায় একটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র থেকে সোমবার সকালে শিশুদের জন্য বরাদ্দ চাল, ডাল ও ছোলা দেওয়ার কথা ছিল। তা সংগ্রহ করতে অভিভাবকরা ওই কেন্দ্রে যান। তাঁরা চাল, ডাল ও ছোলায় পোকা দেখে তার প্রতিবাদ করেন।
শিশুদের জন্য দেওয়া খাবারে পোকা থাকায় অভিভাবকরা তা নিতে অস্বীকার করেন। পাশাপাশি তাঁরা বিক্ষোভও দেখাতে শুরু করেন। উত্তেজনা বাড়তে থাকায় ডোমজুড় থানা থেকে ঘটনাস্থলে আসে পুলিশ। পরে সেখানে যান ডোমজুড়ের বিডিও রাজা ভৌমিকও।
অভিভাবকদের অভিযোগ, দীর্ঘ দিন ধরে ওই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র থেকে খারাপ মানের চাল ও ডাল দেওয়া হচ্ছে। কর্তৃপক্ষকে বারবার জানানো সত্ত্বেও তারা কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। ওই খাবার খেলে শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে বলে তাঁদের আশঙ্কা। তাই তাঁরা ওই খাবার শিশুদের দিতে পারেন না। তাঁরা আরও জানান, এই মানের খাবার দেওয়া হতে থাকলে তাঁরা শিশুদের অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে পাঠানোর বিষয়টি নতুন করে বিবেচনা করবেন।
স্থানীয় বাসিন্দা তথা অভিভাবক আলি হোসেন গাজি বলেন, “মিডডে মিলে শিশুদের এই পোকাধরা চালের ভাত খাওয়ানো হবে। এই চালের ভাত খাওয়ালে কি যে ক্ষতি হবে তাদের! তা সত্ত্বেও এ জিনিস দেওয়া হচ্ছে। এ নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে অভিযোগ আসছে কিন্তু ওঁরা কোনও কর্ণপাত করছেন না। উপরেই অফিস রয়েছে কিন্তু ডাকলেও কেউ আসেন না। স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানকে ফোন করা হয়েছে। তিনিও একবারের জন্যও আসেননি। এটা আজকের সমস্যা নয়। আলু যা দেওয়া হয় তাও খারাপ। ডাল নিম্ন মানের। ফেলে দিলেও খাবে না কেউ। ছ’মাস হয়ে গেল সর্ষের তেল পড়ে আছে। কোনও গন্ধ নেই। নষ্ট হয়ে গেছে। কোনও টেন্ডার ছাড়া বেনিয়মে মাল কেনা হচ্ছে। ওরা কোনও পাকা রসিদও দেখাতে পারবে না।”
গ্রামবাসী নিজামুদ্দিন মণ্ডল বলেন, “বার বার বলার পরেও আমাদের কোনও কথা কেউ শুনছে না। তাই আমরা গ্রামবাসীরা মিলে আজ এর প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এই জিনিস দিয়ে বলে নিতে হয় নাও না হলে ঘরে চলে যাও। আমাদের দাবি যিনি এর জন্য দায়ী তাঁকে বদলি করে দেওয়া হোক। আর জিনিস খারাপ দিলে আমরা বাচ্চাদের পাঠাব না।”
ডোমজুড়ের বিডিও রাজা ভৌমিক বলেন, তিনি ঘটনাটা জানার পরে চাইল্ড প্রজেক্ট ডেভেলপমেন্ট অফিসারকে এ ব্যাপারে তদন্ত করে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। শিশুদের খাবারের ক্ষেত্রে মান ও পরিমাণ নিয়ে কোনও আপোশ করা হবে না বলেও তিনি তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।