দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরেও দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট ব্লকের বিভিন্ন রেশন দোকানে গ্রাহকরা খাদ্যসামগ্রী আনতে গেলে অনেক ক্ষেত্রেই তাঁদের ফিরে যেতে হয়। তাঁদের অভিযোগ, ডিলাররা ডিজিটাল রেশন কার্ড ছাড়া অথবা অন্ত্যোদয় যোজনা ১-এর কার্ড ছাড়া বিনামূল্যে খাদ্যসামগ্রী দিতে অস্বীকার করেন। এরই প্রতিবাদে বিভিন্ন রেশন গ্রাহক জেলাশাসক দফতরে গিয়ে ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান। দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভ চলার পরে অবস্থা সামাল দিতে ঘটনাস্থলে চলে আসে বালুরঘাট থানার পুলিশ।
রেশন গ্রাহকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ডিজিটাল রেশন কার্ডের কাজ ঢিমেতালে চলছে। এর ফলে বহু গ্রাহকের কাছে ডিজিটাল রেশন কার্ড এখনও নেই। স্রেফ এজন্যই আজ তাঁরা সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। রেশন কার্ড তৈরি করার আবেদনের রসিদ দেখানোর পরেও তাঁরা খাদ্য সামগ্রী পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন।
জেলাশাসকের অফিসে এদিন বিক্ষোভে সামিল হয়েছিলেন রিনা শেঠ। তিনি অভিযোগ করেন, “রেশন দোকান থেকে আমাদের প্রথমে পাঠানো হয় বিডিও অফিসে, সেখান থেকে আবার এখানে। আমরা সকাল থেকে এক অফিস থেকে আর এক অফিসে ঘুরছি। আমরা কি এবার না খেয়ে মরব?” আর এক গ্রামবাসী নন্দরানি হালদারের অভিযোগ, “চাতরায় কন্ট্রোল থেকে বলে দিয়েছে পয়সা ছাড়া জিনিস দেবে না। ১৩ টাকা কেজি চাল ও ৯ টাকা কেজি গম কিনতে হবে। আমরা কোথা থেকে এখন পয়সা পাব? তারপরে বিডিও অফিস থেকে একজন বলল সাপ্লাই অফিসে যেতে।”
এরপর তড়িঘড়ি জেলাশাসক নিখিল নির্মলের নির্দেশে জেলা খাদ্য সরবরাহ আধিকারিক জয়ন্তকুমার রায় জানান, “সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী সকলকেই বিনামূল্যে খাদ্য সরবরাহ করা হবে। অন্ত্যোদয় যোজনা ১ কার্ডধারীরা যেমন খাদ্যসামগ্রী পাবেন তেমন অন্ত্যোদয় যোজনা ২ কার্ডধারীরা খাদ্য দফতরে আবেদন জানানোর পরে টোকেন পাবেন। এই টোকেনের বিনিময়ে তাঁদেরও বিনামূল্যে খাদ্য সরবরাহ করা হবে।” যদিও সেই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে দিনকয়েক সময় লাগবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
রেশন পাওয়া নিয়ে সমস্যা তো হয়েইছে আরও সমস্যা হয়েছে এত লোকের জমায়েত নিয়ে। বিক্ষোভের সময় দেখা যায় কেউই সামাজিক দূরত্ব মানছেন না উত্তেজনার বশে। অনেকের মুখে মাস্ক পর্যন্ত নেই।