
শেষ আপডেট: 1 May 2020 07:52
সুনীত ও পুনম মুখ ও হাত নেড়ে বোঝালেন করোনা ভাইরাসকে আটকাতে নাক ও মুখ ঢেকে রাখা জরুরি কিন্তু মুখ ঢেকে রাখলে মনের ভাব তাঁরা প্রকাশ করতে পারছিলেন না। তাই একদিন মোবাইল ফোনে ইউটিউব দেখে মাস্ক তৈরি শিখে নিলেন। তারপরে নিজেদের প্রয়োজনমাফিক বানিয়ে নিলেন মাস্ক। এখন আর তাঁদের কোনও সমস্যা হচ্ছে না। সুনীতের বাবা সুজিত চক্রবর্তী বলেন, “আমার ছেলে ও বৌমা উভয়েই মূক ও বধির। ওদের ভাষা আমরা বুঝি মুখের ভঙ্গি, ঠোঁট নাড়া ও হাতের ইশারায়। কিন্তু করোনা ভাইরাসের আতঙ্কে সকলকেই মাস্ক পরতে হচ্ছে। বাধ্যতামূলকও বটে। ওরা মাস্ক পরে থাকলে ওদের ভাষা বুঝতে পারছিলাম না। এখন ওরা মাস্কের মাঝখানটা কাঁচি দিয়ে কেটে ঠোঁটের অংশটা স্বচ্ছ প্লাস্টিক লাগিয়ে দিয়েছে তাতে আমরা ওদের ঠোঁট নাড়া দেখে ওদের ভাষা বুঝতে পারছি।
কলকাতার মূক ও বধির বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা মন্দিরা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, মূক ও বধির মানুষের ভাষা বোঝার জন্য মুখ ও ঠোঁটের একটা বড় ভূমিকা আছে। মাস্ক পরে থাকলে সেটা সম্ভব হবে না। কিন্তু ঠোঁটের অংশটা যদি স্বচ্ছ কোনও কিছু দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয় তাহলে ঠোঁটের সঞ্চালন সহজেই বোঝা যাবে। যে দম্পতি নিজেরা এই মাস্ক উদ্ভাবন করে নিজেদের মনের ভাব বিনিময় করছেন তাঁদের ধন্যবাদ। তাঁরা স্বাস্থ্য সচেতন। এই ভাবেই মূক ও বধিররা মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন।”
চিকিৎসক মৃত্যুঞ্জয় খাঁড়া বলেন, “নাক-মুখ ঢেকে রাখা নিয়ে দরকার যাতে হাঁচি বা কাশি হলে জীবাণু একে অন্যের কাছে বা পরিবেশে মিশে না যায়। মাস্ক বা অন্য কোনও জিনিস দিয়ে নাক মুখ ঢেকে রাখলেই হবে। মূক ও বধিররা তাঁদের মতো করে নাক-মুখ ঢেকে রেখেছেন। এটাই যথেষ্ট।”