দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৃদ্ধা শাশুড়িকে বঁটি দিয়ে কোপানোর অভিযোগে গ্রেফতার পুত্রবধূ। পূর্ব বর্ধমানের দেওয়ানদিঘি থানার অন্তর্গত কুড়মুনে ঘটেছে এই ঘটনা। বুধবার সকালে কুড়মুনে শ্বশুরবাড়ি থেকে তরুণীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। জানা গিয়েছে, ধৃতের নাম প্রিয়াঙ্কা মণ্ডল।
পুলিশ সূত্রে খবর, প্রিয়াঙ্কার স্বামী বিএসএফে কর্মরত। দীর্ঘদিন ধরেই বাড়ির বাইরে থাকেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, সেই সুযোগে অনেকদিন ধরেই শাশুড়ির উপর অত্যাচার চালাচ্ছে প্রিয়াঙ্কা। হামেশাই তরুণী তার শাশুড়িকে মারধর করে বলে দাবি করেছেন প্রতিবেশীরা। জানা গিয়েছে এর আগেও একবার শাশুড়িকে বন্ধ ঘরে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করেছিল প্রিয়াঙ্কা। সে বারও পুলিশ এসে বৃদ্ধাকে উদ্ধার করেছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে বঁটি নিয়ে শাশুড়িকে এলোপাথাড়ি কোপাতে শুরু করে প্রিয়াঙ্কা। স্থানীয়রা এসে বৃদ্ধাকে কোনওমতে উদ্ধার করেন। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে কুড়মুন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই আপাতত চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি। তাঁর বয়ানের ভিত্তিতেই প্রিয়াঙ্কার বিরুদ্ধে দেওয়ানদিঘি থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
বুধবার সকালে গ্রেফতার করা হয় প্রিয়াঙ্কাকে। এ দিনই তাকে বর্ধমান আদালতেও পেশ করা হয়েছিল। যদিও বর্ধমান আদালতের আইনজীবীরা করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে কর্মবিরতি পালন করছেন। তাই ধৃতের পক্ষে এ দিন আদালতে কোনও আইনজীবী সওয়াল করেননি। ধৃতকে ৪ অগস্ট পর্যন্ত বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত সিজেএম।
প্রিয়াঙ্কার সঙ্গেই জেলে পাঠানো হয়েছে ২ বছরের সন্তানকে। প্রিজন ভ্যানে ওঠার আগে এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রিয়াঙ্কা। তার দাবি, গ্রেফতারের সময় পুলিস বলেছিল ছেলেকে তার বাবার হাতে তুলে দেওয়া হবে। কিন্তু তা হয়নি। উল্টে ছেলেকে নিয়েই তাকে জেলে যেতে হচ্ছে। প্রিয়াঙ্কা আরও বলেছে যে এইসময় চারিদিকে করোনার সংক্রমণ হচ্ছে। জেলে তার সন্তান সংক্রামিত হতে পারে। তাছাড়াও বাচ্চার অন্যান্য অনেক সমস্যা হতে পারে।
প্রিয়াঙ্কার কথায় তার বাবা আদালতে এসেছিলেন নাতিকে নিতে। কিন্তু পুলিশ অনুমতি দেয়নি। গোটা বিষয়টা পুলিশ এবং আদালত যাতে মানবিক ভাবে দেখে সেই আর্জি জানিয়েছে অভিযুক্ত।