দ্য ওয়াল ব্যুরো, বীরভূম: চিন্তা চেতনা বা রাজনীতিক সংস্কৃতিতে তাঁকে আমরা কতটা মনে রেখেছি, সে প্রশ্ন আপাতত থাক। তবে জন্মদিনে তাঁকে নিয়ে ধূমের অন্ত নেই কখনই। এ বার তো আবার সার্ধ শতবর্ষ। তাই গান্ধীজয়ন্তী পালন অনুষ্ঠান দেশজুড়েই ছিল নজরকাড়া। সেই ভিড়ে আলাদা করে চিনে নেওয়া গেল হাসনের কংগ্রেস বিধায়ক মিল্টন রশিদকে।
গান্ধীজীর সার্ধ শতবর্ষ উদযাপনে এ বার ওয়ার্ধার আশ্রমে গিয়ে নিজেদের থালা বাসন ধুয়েছেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী ও তাঁর মা সনিয়া ও বোন প্রিয়াঙ্কা। তবে এ সব পথে না হেঁটে নিজের মতো করে মহাত্মাকে স্মরণ করলেন রাজ্যের এই কংগ্রেস বিধায়ক।
তাঁর বিধানসভা এলাকার লোহাপুর গ্রামে মঙ্গলবার জাতির জনকের সার্ধ শতবর্ষ উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন তিনি। গান্ধীজির ছবিতে মালা দেওয়ার পরে নলহাটি ২ নম্বর ব্লকের একাদশ শ্রেণির পড়ুয়াদের সংবর্ধনা দিলেন কংগ্রেস বিধায়ক। সেই সমাজসেবা শেষ হতেই শুরু হল উদ্দাম নাচগান। বিকেল শেষ হয়ে সন্ধে নেমেছে তখন। চটুল হিন্দি গানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নাচতে শুরু করে দিলেন বিধায়কও।
https://www.youtube.com/watch?v=zhJlvjS8kT0
জেলায় সমালোচনার ঝড় উঠলেও অকপট মিল্টন। তাঁর কথায়, "আমার কাছে তো পাচন নেই, নাচন আছে। গান্ধীজি বলেছিলেন মানুষকে আনন্দ দাও। গান যদি মানুষকে আনন্দ দেওয়ার একটি মাধ্যম হয়ে থাকে, তাহলে নাচ অপর একটি মাধ্যম। সাধারণ মানুষ চেয়েছিলেন আমি আমার বিধায়ক সত্ত্বাকে সরিয়ে নাচ করি। তাই আমি নাচ করেছিলাম, নাচ করার সাথে আমি যে বিধায়ক তাঁর কোন সম্পর্ক নেই।"
উল্লেখ্য শুক্রবার বীরভূমের জেলা পরিষদ গঠনের দিন তৃণমূলের জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল দলের কর্মীদের উদ্দেশে বলেছিলেন, “রেডি হোন, পুজোর পরে আচট জমিতে পাচন দেব।” বিধায়ক নাচন দিয়ে অনুব্রতর পাচনের মোকাবিলা করতে চাইলেও অনুষ্ঠানটা যেহেতু গান্ধী জয়ন্তী, তাই মুখ একেবারে বন্ধও রাখতে পারছেন না সমালোচকরা।
একজন তো জনান্তিকে বলেই ফেললেন, “সত্যিই ভবিষ্যৎদ্রষ্টা ছিলেন গান্ধীজি। না হলে কি ভারত স্বাধীন হওয়ার পরে বলতেন- কংগ্রেস স্বাধীনতা অর্জনের উদ্দেশ্যে তৈরি একটি মঞ্চ। এ বার এটাকে তুলে দেওয়াই ভাল।”