দ্য ওয়াল ব্যুরো: নোয়াপাড়া পর্যন্ত মেট্রো রেল রয়েছেই। অনেকদিন ধরে কাজ চলছে সেটাকে দক্ষিণেশ্বর পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার। শুক্রবার মেট্রো রেলের ইঞ্জিনিয়রদের একটি বড় দল সেই কাজ খতিয়ে দেখলেন। কাজের অগ্রগতি দেখতে অন্তত ৩০ জন ইঞ্জিনিয়র এদিন বরাহনগর স্টেশনে যান।
কবে শুরু হবে দক্ষিণেশ্বর পর্যন্ত মেট্রো? সে ব্যাপারে কোনও সময়সীমা না জানালেও, কাজের গতি দেখে অনেকেই মনে করছেন যত দ্রুত সম্ভব এই পরিষেবা চালু করতে চাইছে মেট্রো কর্তৃপক্ষ।
দক্ষিণেশ্বর পর্যন্ত মেট্রো রেলের সম্প্রসারণের প্রকল্প ঘোষণা করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তখন ২০১০ সাল। কেন্দ্রের রেলমন্ত্রী তিনি। কিন্তু ইউপিএ সরকার থেকে তৃণমূল বেরিয়ে আসার পর যা হওয়ার তাই হয়েছে। দশ বছরের বিচারে কাজের যা অগ্রগতি হয়েছে তাতে অনেকের মতে, একশোয় টেনেটুনে দশই দেওয়া যায়।
নিত্যযাত্রীদের সংখ্যার নিরিখে মুম্বইয়ের শহরতলির সঙ্গে কলকাতার শহরতলির বিশেষ ফারাক নেই। কিন্তু মনমোহন ও মোদী জমানায় মুম্বইয়ে ‘মাস র্যাপিড ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম’ তথা এমআরটিএস পরিকাঠামো যে দ্রুত হারে বেড়েছে তার তুলনায় কলকাতা অনেক পিছিয়ে। কারণ, রেলমন্ত্রককে তাগাদা দেওয়ার লোক নেই। বা দিলেও শুনছে না। ফলে যা হওয়ার তাই হয়েছে। উত্তর শহরতলির নিত্যযাত্রীদের নাকানি চোবানি অব্যাহত।
শুক্রবারের ঘটনা সেদিক থেকে মরুভূমির মধ্যে মরিচিকার মতোই। ৩০ জনের পরিদর্শক দল দেখেই অনেকে আশাবাদী। মেট্রো রেলের কর্তারাও বলছেন, এবার আর বিশেষ দেরি হবে না।
নোয়াপাড়া থেকে দক্ষিণেশ্বর পর্যন্ত বর্ধিত রুটে দুটি স্টেশন হবে। একটি বরাহনগর ও অন্যটি দক্ষিণেশ্বর। সন্দেহ নেই এই পরিষেবা চালু হলে হুগলি ও হাওড়ার একটা বড় অংশের মানুষ যাঁরা নিয়মিত মধ্য, উত্তর ও দক্ষীন কলকাতায় কাজে যান তাঁদের বড় সুবিধা হয়ে যাবে। এখন মেট্রো ধরতে গেলে ডানলপ হয়ে নোয়াপাড়া পৌঁছতে হয়। এই রুট চালু হয়ে গেলে সেই সময় আর নষ্ট করতে হবে না। ফলে মেট্রো রুট হয়ে যাবে কবি সুভাষ থেকে একেবারে দক্ষিণেশ্বর পর্যন্ত।
সাধারণের মধ্যে একটি ধারণা রয়েছে এই রুট বুঝি যুক্ত হবে ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর সঙ্গে। কিন্তু তা একেবারেই নয়। কলকাতার প্রথম যে মট্রো রুট সেই পথেরই এক্সটেনশন হচ্ছে দক্ষিণেশ্বর পর্যন্ত। ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো চালু হলে কোনও একটি জংশন স্টেশনে নেমে ট্রেন বদল করতে হবে।