দ্য ওয়াল ব্যুরো: ৭৫ দিন পর আজ শনিবার সর্বসাধারণের জন্য খুলল দক্ষিণেশ্বর মন্দির। মন্দির খোলার সঙ্গে সঙ্গেই পুণ্যার্থীদের ঢল নেমেছে দক্ষিণেশ্বর চত্বরে। এদিন সকাল সাতটা নাগাদ দক্ষিণেশ্বর মন্দির খোলে। যদিও গেট খোলার আগে থেকেই বৃষ্টি উপেক্ষা করে মন্দির চত্বরে হাজির হন পুণ্যার্থীরা।
তবে আগের মত কেবল লাইন দিয়েই মন্দির চত্বরে ঢোকা যাবে না। থার্মাল গান দিয়ে শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করিয়ে, স্যানিটাইজ টানেলের মধ্যে দিয়ে মন্দিরে প্রবেশ করতে পারবেন পুণ্যার্থীরা। প্রত্যেকের মুখে মাস্ক থাকা বাধ্যতামূলক। মন্দির সূত্রে খবর, স্কাইওয়াক দিয়ে প্রবেশের আগে এক দফায় এবং মন্দির চত্বরে প্রবেশের পর দ্বিতীয় দফায় পুণ্যার্থীদের শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করা হবে।
মন্দির কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, শরীরের তাপমান ৯৮.৬ ডিগ্রির মধ্যে থাকলে তবেই মন্দিরে প্রবেশের অনুমতি মিলবে। তার বেশি হলে দর্শনার্থীদের ফিরিয়ে দেওয়া হবে। এরপর নির্দিষ্ট সামাজিক দূরত্ব মেনে মন্দির চত্বরে ঢুকলেও গর্ভগৃহে প্রবেশ নিষিদ্ধ। এমনকি পুজোর ডালিতে থাকছে না ফুল-মালাও। গর্ভগৃহে যে পুরোহিতরা ভবতারিণীর পুজো করবেন, তাঁদের প্রত্যেকের মাস্ক সহ পিপিই পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময় থেকেই বন্ধ হয়ে গিয়েছিল সমস্ত ধর্মস্থান। পয়লা বৈশাখে যে দক্ষিণেশ্বরে পুজো দেওয়ার লাইন গঙ্গা পেরিয়ে প্রায় বালিখাল পর্যন্ত চলে আসে এবার করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ভয়ে নববর্ষের দিনও মন্দিরমুখী হওয়া যায়নি। গত ১ জুন থেকেই রাজ্যে ধর্মস্থান খোলায় অনুমতি দেয় নবান্ন। যদিও তারপর গোটা মন্দির চত্বর, স্কাইওয়াক, পার্কিং লট স্যানিটাইজ করার কাজ শেষ করে মন্দির খোলার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।
এদিন বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ এসেছিলেন মন্দিরে পুজো দিতে। কসবার হালতু থেকে পুজো দিতে আসা রাখি দাস গোটা ব্যবস্থা দেখে অত্যন্ত খুশি। তিনি বলেন, "খুব সুন্দর ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুজো দিতে পেরে যেমন মনটাও ভাল লাগছে তেমনই ভাল লাগছে গোটা বন্দোবস্ত দেখে।"