সবংয়ের বীর শ্যামল শহিদ হওয়ায় বড় একা হয়ে গেলেন আবাল্য সঙ্গী নন্দ
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সিআরপিএফের ৯০ ব্যাটেলিয়নের জওয়ান শহিদ শ্যামলকুমার দের (২৮) মৃত্যুতে বড় একা হয়ে গেলেন তাঁর ছোটবেলার সঙ্গী নন্দ দে। পারিবারিক সম্পর্কের বিচারে তিনি কাকা হলেও বাস্তবে তাঁরা ছিলেন অভিন্নহৃদয় বন্ধু। লোকে তাঁদের একসঙ্গে নন্দ-শ্য
শেষ আপডেট: 29 June 2020 03:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সিআরপিএফের ৯০ ব্যাটেলিয়নের জওয়ান শহিদ শ্যামলকুমার দের (২৮) মৃত্যুতে বড় একা হয়ে গেলেন তাঁর ছোটবেলার সঙ্গী নন্দ দে। পারিবারিক সম্পর্কের বিচারে তিনি কাকা হলেও বাস্তবে তাঁরা ছিলেন অভিন্নহৃদয় বন্ধু। লোকে তাঁদের একসঙ্গে নন্দ-শ্যামল বলেই ডাকতেন।
শ্যামলকুমার দে শহিদ হওয়ার বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন নন্দ দে। শোকে পাথর হয়ে শেষ বিদায়টুকু জানাতে কাছে যেতে পারেননি তিনি। লোকে বলছেন ভেঙে গেল নন্দ-শ্যামলের এত দিনের জুটি।
সবং থানার সিংপুর গ্রামের বাসিন্দা নন্দ দে ২৬ তারিখে রাতেই দুঃসংবাদটি পান। জানতে পারেন তাঁর ভাইপো তথা বন্ধু শ্যামলকুমার দে শুক্রবার দুপুরে কাশ্মীরের বিজবেহেরার ত্রালে জঙ্গিদের ছোড়া গুলিতে শহিদ হয়েছেন। এ কথা শোনার পর থেকে তিনি আর কথা বলতে পারছিলেন না। ফুলের ভারে ও জাতীয় পতাকায় মোড়া গর্বিত দেহ সহকর্মীদের কাঁধে চড়ে যখন আসছিল তখন সেই বিদায়যাত্রা দেখতে লোক ভেঙে পড়েছিল গ্রামে। শুধু এক জন দাঁড়িয়ে ছিলেন বেশ খানিকটা দূরে। কফিনবন্দি দেহ পৌঁছনো মাত্রই কান্নায় ভেঙে পড়ে তাঁর পরিবার সহ গোটা গ্রাম। সিংপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে তৈরি করা অস্থায়ী মঞ্চে যখন রাখা হয় শহিদের নশ্বর দেহ তখন সেই আনুষ্ঠানিকতা থেকে অনেকটা দূরে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। একাকী চোখের জল ফেলেছেন অনেকটা দূরে দাঁড়িয়ে। তাঁর পা চলল না। কফিনের কাছে তিনি যেতে পারলেন না। পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় যখন শেষকৃত্য সম্পন্ন হল তখনও সেখানে যেতে পারলেন না তিনি।
আরও পড়ুন:
গ্রামে তাঁদের বন্ধুত্ব ছিল কৃষ্ণ-সুদামার বন্ধুত্বের মতোই সুবিদিত। শেষ দর্শনে কৃষ্ণের জন্য একমুঠো চিঁড়ে নিয়ে গিয়েছিলেন গরিব ব্রাহ্মণ সুদামা। তা ছিল সন্দীপনী ঋষির আশ্রমে থাকাকালীন এক বর্ষায় কৃষ্ণের চিঁড়ের ‘ঋণ’ পরিশোধ। তখন প্রতিদান দিতে ভোলেননি শ্রীকৃষ্ণও। মহাভারতের সেই কাহিনি অনন্য। কিন্তু নন্দ-শ্যামল জুটির শেষটা তেমন হল না। তাঁদের বন্ধুত্ব এমন ভাবে শেষ হল যে ইহজগতে আর দেখা হওয়ার কোনও সম্ভাবনা রইল না।
শেষ দেখা তিনি দেখতে পারলেন না। হয়তো নন্দ দে তখন মনে মনে ভাবছিলেন... যারা কাছে আছে তারা কাছে থাক/ তারা তো পারে না জানিতে, / তাহাদের চেয়ে তুমি কাছে আছ/ আমার হৃদয়খানিতে।