দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা সংক্রমণের নিরিখে উত্তর ২৪ পরগনা জেলা নিয়ে প্রশাসনের চিন্তা থাকলেও জেলার মানুষ যে এখনও সচেতন নন তা স্পষ্ট হয়ে যায় বসিরহাট মহকুমার ন্যাজাট থানার দক্ষিণ আখড়াতলা ও কালিনগর বাজার দেখলেই। এলাকাটি সুন্দরবনের মধ্যে পড়ছে। এখানে দেদার চলছে ভ্যান-রিকশা। বাজারেও তিল ধারণের স্থান নেই।
এই দুই বাজার দেখলে মনেই হবে না যে সারা দেশে লকডাউন চলছে এবং এই জেলা রয়েছে একেবারে উপরের দিকে। এই জেলাকে লাল তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তা সত্ত্বেও এই সব বাজারগুলোতে সকাল থেকে বহু লোকের জমায়েত হচ্ছে। চায়ের দোকানগুলিতেও ভিড়। লোকে জিনিস কিনছেন গায়ে ঠেকিয়ে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার কথা বলে যে আদৌ কোনও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে তা বোঝা যায় না এই বাগানে এলে।
বাজার থেকে বেরোলেই দেখা যাবে যে এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে ছুটে বেড়াচ্ছে ভ্যান রিকশা। করোনাভাইরাস সংক্রান্ত কোনও সচেতনতার বার্তা যে এই এলাকার লোকজনের কানে পৌঁছায়নি তা বোঝাই যাচ্ছে।
পুলিশ অবশ্য এখানে মাইকিং করে লোকজনকে সাবধান করছে, করোনার বিপদ নিয়ে প্রচার করেছে, পোস্টার লাগাচ্ছে। স্যানিটাইজার দিয়ে হাত ধুয়ে দিচ্ছে। অনেককে মাক্সও পরিয়ে দিচ্ছে। এখানে বেশির ভাগ মানুষকে দেখা যাচ্ছে মুখে মাক্স নেই। পুলিশ জানিয়েছে যে এর পরেও যদি মানুষ সচেতন না হন তাহলে তারাও কঠোর হবে।
বসিরহাট পুলিশ জেলায় ২ নম্বর রাজ্য সড়ক টাকি রোড ও ইটিণ্ডা রোডের উপরে সোমবার বার্তা লিখতে দেখা যায় পুলিশ কর্মীদের। সব লিখনই করোনা থেকে সতেচন হওয়ার বার্তা।
এর আগে দেখা গিয়েছিল সচেতনতার বার্তা দিতে কখনও গোলাপ ফুল দিচ্ছেন পুলিশকর্মীরা। কখনও দেখা গেছে তাঁরা খোলা মঞ্চে গান গাইছেন। এবার দেখা গেল রাস্তার উপর রং তুলি দিয়ে ফুটিয়ে তুলছেন সচেতনতার বার্তা। বসিরহাটের মহকুমা প্রশাসন সোমবার সকাল থেকে ইছামতি ব্রিজের কাছে মাস্ক ও স্যানিটাইজার ব্যবহারের বার্তাও দিয়েছে।
বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ব্যাঙ্কে সারপ্রাইজ ভিজিট করেছেন পুলিশ সুপার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার। তাঁরা নিজেরাই মানুষকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার প্রয়োজন ও কা ভাবে তা বজায় রাখা যেতে পারে সে কথা বোঝান। নিয়ম না মানলে প্রশাসন কঠোর হবে বলেও তাঁরা বার্তা দিয়েছেন।