দ্য ওয়াল ব্যুরো, হাওড়া: কোভিডে মৃত এক ব্যক্তির দেহ শেষ দেখার জন্য আত্মীয়দের কাছ থেকে মোটা টাকা চাওয়ার অভিযোগ উঠল শিবপুর শ্মশান ঘাটের কর্মীদের বিরুদ্ধে। মৃতের আত্মীয়রা ইতিমধ্যেই এব্যাপারে ইমেইলের মাধ্যমে জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন।
হরি ওম গুপ্তা নামে ৬৪ বছরের এক ব্যক্তি সম্প্রতি করোনায় আক্রান্ত হন। গত ২৩ জুলাই তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় কলকাতার মারওয়াড়ি রিলিফ সোসাইটি হাসপাতলে। এক বেসরকারি হাসপাতালে তাঁর লালারসের নমুনা পরীক্ষা করানো হলে জানা যায় তিনি করোনা পজিটিভ। তিনি উপসর্গহীন হওয়ায় হাসপাতালের চিকিৎসকরা তাঁকে বাড়িতে থেকেই চিকিৎসা করানোর পরামর্শ দেন। গত শুক্রবার তাঁর শারীরিক অসুস্থতা বাড়ে। শুরু হয় শ্বাসকষ্ট। শনিবার সকালে বাড়ির লোক জেলা স্বাস্থ্য দফতরের হেল্পলাইনে ফোন করলে বাড়িতে অ্যাম্বুল্যান্স যায়। এরপর ওই রোগীকে নিয়ে যাওয়া হয় টিএল জয়সওয়াল হাসপাতলে। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে পরীক্ষা করার পরে হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেন।
কিছুক্ষণ পরে তাঁর অবস্থার অবনতি হলে রাত আটটা নাগাদ তাঁকে সঞ্জীবন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তাঁকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়। শনিবার রাত এটা নাগাদ ওই রোগীর মৃত্যু হয়। বাড়ির লোকের অভিযোগ, রোগীর মৃত্যুর খবর রবিবার দুপুর বারোটা নাগাদ হাসপাতলে ফোন করলে তাঁরা জানতে পারেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায় ওই রোগীর বাড়ির লোকের ফোন নম্বর না থাকায় তারা খবর জানাতে পারেনি।
এরপরে স্বাস্থ্য দফতরের শববাহী গাড়ি বিকেল চারটে নাগাদ শিবপুর শ্মশানে দেহ সৎকারের জন্য নিয়ে পৌঁছয়। সেখানেই মৃতের আত্মীয়-পরিজন মৃতদেহ দেখতে চাইলে তাঁদের থেকে মোটা টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ। প্রথমে একান্ন হাজার টাকা দাবি করা হলেও পরে কাউন্টারে আড়াই হাজার টাকা জমা দিতে হয়। তবেই মৃতের পরিবারের লোকজন শেষ দেখা দেখতে পান বলে অভিযোগ। মৃতের পরিবারের লোকজন সোমবার সন্ধ্যায় জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন। মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে গোটা ঘটনা তদন্ত করে দেখা হবে। হাওড়া পুর নিগমের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারাও লিখিত অভিযোগ পেলে গোটা ঘটনাটি তদন্ত করে দেখবে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে। তবে অভিযুক্ত ডোম রাজা মল্লিক তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।