দ্য ওয়াল ব্যুরো, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: পূর্ণিমার ভরা কোটালের আগেই নদীবাঁধে ধস সুন্দরবনে। বাসন্তী ব্লকের হোগল নদীতে প্রবল জলোচ্ছ্বাসে নদীবাঁধে ফাটল দেখা দেওয়ায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন এলাকার মানুষ।
বুধবার সকালে বাসন্তী ব্লকের সজিনাতলা মৌজা এলাকায় হোগল নদীর উপর প্রায় ৩০০ ফুট নদী বাঁধে ধস দেখতে পান গ্রামবাসীরা। ভরা কোটালে নদীর জল বেড়ে যাওয়ায় যে কোন মুহূর্তে লবণাক্ত জল ঢুকে স্থানীয় খাঁ পাড়া, অফিস পাড়া, গাজি পাড়া প্লাবিত হতে পারে। এমন আশঙ্কায় প্রহর গুনছেন নদী তীরবর্তী গ্রামের মানুষজন। জোয়ারের সময় নদীবাঁধ ভেঙে জল ঢুকে পড়লে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে প্রচুর বাড়িঘর, ধানচাষের জমি ও পুকুরের মাছ।
নদীবাঁধে ফাটল দেখেই স্থানীয় গ্রামবাসীরা তড়িঘড়ি নদীবাঁধ মেরামতির কাজে হাত লাগান। খবর পেয়ে আসেন সেচ দফতরের কর্মীরাও। বাসন্তী পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য তাপস মণ্ডল বলেন ‘‘কোটালের জেরে নদীতে প্রবল জলোচ্ছ্বাস হয়। হোগল নদীর বাঁধে প্রায় ৩০০ ফুট ধস নামে। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় তা মেরামতির কাজ চলছে।”
সামনে পূর্ণিমার ভরা কোটাল। তাই নদীর জল বাড়লে নদীবাঁধ ভেঙে প্লাবিত হতে পারে বেশ কয়েকটি গ্রাম। এমন আশঙ্কায় কাঁটা হয়ে রয়েছেন এলাকার মানুষ। ২০০৯ সালের ২৫শে মে ঘূর্ণিঝড় আয়লা আছড়ে পড়েছিল সুন্দরবনের উপর। ক্ষয়ক্ষতির সেই স্মৃতি এখনও টাটকা সুন্দরবনবাসীর মনে। এই বছরেই ধেয়ে এসেছিল ঘূর্ণিঝড় উমফান। প্রাণ ও
সম্পত্তিহানির সেই স্মৃতিও এখনও টাটকা। এরই মধ্যে বুধবার সকালে ভরা কোটালের জলোচ্ছ্বাসে হোগলা নদীর বাঁধে ধস দেখা দেওয়ায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এলাকার মানুষ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ‘‘যেন তেন প্রকারে সরকার উদ্যোগ নিয়ে নদীবাঁধের ভাঙন রুখতে শক্তপোক্ত বাঁধ তৈরি করুক। না হলে প্রতি কোটালে আতঙ্কের প্রহর গুনতে হবে তাঁদের।’’