
শেষ আপডেট: 25 May 2019 08:59
দত্তপুকুরে সিপিএমের পার্টি অফিস[/caption]
২০১১-র আগে এই পার্টি অফিসগুলি ছিল সিপিএমেরই। কিন্তু পরিবর্তনের পর তা চলে যায় তৃণমূলের জিম্মায়। কোনওটা আবার ১৬ সাল পর্যন্ত ছিল বামেদের। গত বিধানসভায় তৃণমূল বিপুল আসন জেতার পর সেগুলিও হারাতে হয় সিপিএম-কে। কিন্তু এ বার ভোটে সিপিএম যখন প্রায় ভেন্টিলেশনে ঢুকে গিয়েছে, তখন আবার পার্টি অফিস দখল! অনেকেই আশ্চর্য হচ্ছেন।
একএক জায়গায় একএক কায়দা। কোথাও সিপিএম নিজেরাই গিয়ে পুরনো পার্টি অফিস খুলে ঝাণ্ডা উড়িয়ে দিয়েছে। কোথাও আবার বিজেপি অপারেশন চালিয়ে সিপিএমের হাতে চাবি তুলে দিয়েছে।
যেমন কোচবিহারের দিনহাটা। সিপিএমের যে পার্টি অফিসগুলি সেখানে তৃণমূলের হয়ে গিয়েছিল রাতারাতি, সেগুলিতেই বিজেপি গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি, জোড়া ফুলের পতাকা খুলে দিয়েছে। তারপর সিপিএম গিয়ে উড়িয়ে দিয়েছে লাল পতাকা। বেশ কয়েক বছর ধরেই কোচবিহার বিরোধী শূন্য। তৃণমূল বনাম তৃণমূলের লড়াইয়েই উত্তপ্ত থাকত উত্তরবঙ্গের এই জেলার রাজনীতি। কিন্তু একদা দাপুটে জেলা তৃণমূল যুব নেতা নিশীথ প্রামাণিক এ বার বিজেপি-র প্রার্থী ছিলেন। জিতেছেন। এই মওকায় মাঠে নেমে পড়েছে বামেরা। টার্গেট তৃণমূল।
[caption id="attachment_107647" align="aligncenter" width="712"]
শ্রীরামপুরের মাহেশে সিপিএম পার্টি অফিস[/caption]
হুগলির গোঘাট। বাম জমানায় সিপিএমের দাপটে এই জনপদে বাঘে গরুতে এক ঘাটে জল খেতো। অভয় ঘোষ, তিলক ঘোষরা জোনাল অফিসে বসে নিয়ন্ত্রণ করতেন সবটা। কিন্তু পটপরিবর্তনের পর তাঁরাই হয়ে যান গোঘাট ছাড়া। তারপর শুরু সবুজ দাপট। কিন্তু এ বার ভোটে আরামবাগ লোকসভা সুতোর ব্যবধানে তৃণমূল জিতলেও, গোঘাট বিধানসভায় বিপুল ভোটে পিছিয়ে শাসকদল। লিড পেয়েছে বিজেপি। সেই সুযোগে ময়দানে নেমেছে সিপিএম। ২০১৩-র পঞ্চায়েতের পর মদিনায় যে পার্টি অফিসের দখল নিয়েছিল, সেই পার্টি অফিসই আবার দখলে নিয়েছে সিপিএম। এবং নেতারা সেটা বিশ্বাসও করতে পারছেন না।
শুধু তো পার্টি অফিস নয়, যে কলেজগুলিতে এসএফআই ঢুকতে পারত না, সেই কলেজের গেটে উড়ল সিপিএমের ছাত্র সংগঠনের পতাকা। নৈহাটির ঋষি বঙ্কিম কলেজে ৫ বছর পর শনিবার সকালে গিয়ে কলেজ গেটে এসএফআই-এর পতাকা লাগিয়ে দেয় বাম ছাত্রকর্মীরা।
[caption id="attachment_107648" align="aligncenter" width="712"]
ঋষি বঙ্কিম কলেজের সামনে এসএফআই-এর পতাকা[/caption]
ভোটের আগে থেকেই বোঝা যাচ্ছিল বাম ভোট এ বার রামের দিকে যেতে পারে। তা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে চর্চা কম হয়নি। মমতা তো কবেই বলেছিলেন, “দিল্লি থেকে এল রাম, সঙ্গে জুটে গেল বাম।” ভোটের ফল প্রকাশের পর দেখা গিয়েছে প্রায় পুরো বাম ভোটটাই গিয়ে পড়েছে গেরুয়া শিবিরে। এত দিন অল্প অল্প করে যাচ্ছিল। কিন্তু এ বার একেবারে হোস পাইপ দিয়ে জল যাওয়ার মতো করে বাম ভোট গিয়ে পড়েছে গেরুয়া বাক্সে। অনেকের মতে, সিপিএমের কাছে ‘শেল্টার’ না পেয়ে যে বাম কর্মীরা বিজেপি শিবিরে গিয়েছে, তারাই সবটা করছে।
এ বার দু’একটা কেন্দ্র ছাড়া তেমন কোনও সিপিএম প্রার্থী প্রচারে দাগই কাটতে পারেননি। ৪০টি কেন্দ্রে প্রার্থী দিয়েছিল বামেরা। ৩৯টি কেন্দ্রে জব্দ হয়ে গিয়েছে জামানত। সেই দলটা হঠাৎ পার্টি অফিস দখল করছে! বিজেপি-র এই প্লাবনের সময় গেরুয়া শিবির পার্টি অফিস দখল করবে, তাদের সঙ্গে তৃণমূলের সংঘর্ষ হবে, এটা প্রত্যাশিতই ছিল। কিন্তু সিপিএম কোথা থেকে উড়ে এসে জুড়ে বসল?
এক সিপিএম নেতার কথায়, “বেশ কিছু জায়গা থেকে পার্টি অফিস দখলের রিপোর্ট এসেছে। এগুলো আগে আমাদেরই ছিল। তৃণমূল দখল করে নিয়েছিল। এখন সেগুলিই আবার দখলমুক্ত হচ্ছে।” কিন্তু ভোট নেই অথচ পার্টি অফিস দখলে বাহিনী রয়েছে? সিপিএমের ওই নেতা জবাবে বলেন, “এ বার ভোটে বামেদের বিপর্যয় হয়েছে। বাংলা তো বটেই, সারা দেশেই হয়েছে। তা বলে তো লোকগুলো রাতারাতি উবে যায়নি!”
তৃণমূল নেতারা অবশ্য বলছেন, এই পুরোটাই আলিমুদ্দিন স্ট্রিট আর মুরলীধর সেন লেনের নেতারা বোঝাপড়া করে করাচ্ছে। কিন্তু বাংলার মানুষ এটাকে মেনে নেবে না।
পর্যবেক্ষকদের মতে, যে বামকর্মীরা তলায় তলায় বিজেপি হয়ে ভোট করিয়েছে, তাঁরাই এই অপারেশনের মূলে। কোথাও কোথাও তো আবার বল বাড়াচ্ছে বিজেপি আর গোল করছে সিপিএম। তৃণমূলের ডিফেন্স কার্যত ভেঙে খানখান।
আরও পড়ুন-
https://www.four.suk.1wp.in/25-05-2019-distnews-tmc-bjp-clash-at-different-districts/