Exclusive: বনেটে তবলার বোল তুলে ফুলের গল্পে মাতলেন বিমান
শোভন চক্রবর্তী
তাঁর মেজাজকে সমঝে চলেন আচ্ছা আচ্ছা বাম নেতা। কেউ জানেন না কখন কী হবে। কখনও তিনি রেগে আগুন, তো কখনও আবার শিশুর মত খিলখিলিয়ে ওঠেন। তাঁর মুড বুঝতে পারেন, বাম শিবিরে এমন নেতা প্রায় নেই বললেই চলে। এ হেন বিমান বসুকে সোমবার পাওয়া গি
শেষ আপডেট: 22 January 2019 14:44
শোভন চক্রবর্তী
তাঁর মেজাজকে সমঝে চলেন আচ্ছা আচ্ছা বাম নেতা। কেউ জানেন না কখন কী হবে। কখনও তিনি রেগে আগুন, তো কখনও আবার শিশুর মত খিলখিলিয়ে ওঠেন। তাঁর মুড বুঝতে পারেন, বাম শিবিরে এমন নেতা প্রায় নেই বললেই চলে। এ হেন বিমান বসুকে সোমবার পাওয়া গিয়েছিল একেবারে অন্য মেজাজে। কলকাতা থেকে অনেক দূরে, হুগলির গোঘাটের এক প্রত্যন্ত গ্রামে।
আশির দোরগোড়ায় পৌঁছে যাওয়া বামফ্রন্ট চেয়ারম্যানের হাঁটার ক্ষমতা রাজনৈতিকমহলে এমনিতেই বহুল চর্চিত। সোমবারও তিনি হাঁটতেই গিয়েছিলেন হুগলিতে। সিপিএমের দু’দিনের ৫০ কিলোমিটার পদযাত্রার শেষ দিনে ১৪ কিলোমিটার রাস্তা (আরামবাগ থেকে কামারপুকুর চটি) হাঁটেন বিমানবাবু। মিছিলে হাঁটতেই হাঁটতেই কিছুটা গাড়িতে চেপে এগিয়ে গিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন গোঘাট থানার পচাখালি বাসস্ট্যান্ডের কিছুটা আগে। আর সেখানেই যেন অন্য বিমান।
রাস্তার ধারের একটি ছোট্ট চায়ের দোকান থেকে চিনি ছাড়া লিকার চা খেয়ে বিড়িতে টান। সঙ্গে গল্প। আর তা করতেই করতেই তাঁকে দেখা গিয়েছে গাড়ির বনেটে তবলার বোল তুলছেন তিনি। কথার মোচড়ে ঘাড় নেড়ে জায়গায় জায়গায় ঠেকা দিচ্ছেন বিমান। যা দেখলে হালফিল রিয়্যালিটি শো-এর কর্তা ব্যক্তিরা তাঁকে অন্তত একবার অতিথি তবলিয়া করে নিয়ে যেতে চাইলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। কী তাল তাঁর! ক’জনই বা জানতেন বিমান বসু বনেটে এমন বোল তুলতে পারেন!
তিনি গাড়ির বনেটে কাহারবা না দাদরা বাজাচ্ছিলেন জানা যায়নি। তবে ভিডিওটি দেখলেই পরিষ্কার, উল্টোপাল্টা চাটি মেরে আসর মাটি করেননি। বরং আসর জমিয়ে ধরা দিয়েছেন অন্য বিমান বসু।
ওই চায়ের দোকানটি চালান এক তরুণী। বিমান বসুর থেকে চায়ের দামও নেননি তিনি। এই শীতে যে ইনকা গাঁদা ফুটিয়েছেন তাঁর ছোট্ট বাগানের টবগুলিতে, তেমন একটি গাঁদা ফুলের টব বিমান বসুর সাদা বোলেরো গাড়িতে তুলে দেন ওই মহিলা। আর ফুল দেখেই উপস্থিত জনা কয়েক দলীয় নেতাকে পুরনো দিনের গল্প শোনান। বিমান বসু বলেন, তখন বামফ্রন্টের সরকার। অল ইন্ডিয়া ফ্লাওয়ার ফাউন্ডেশন নামের একটি সংগঠন তাঁকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল প্রদর্শনীতে অতিথি হয়ে যেতে। কিন্তু দলের কর্মসূচির জন্য যেতে পারেননি। বিমান বলেন, ওই সংস্থা আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে একটি গোলাপ ফুলের টব পাঠিয়েছিল। তাতে একটি গাছে নাকি ছিল চারটি রঙের গোলাপ। সিপিএম পলিটব্যুরোর এই সদস্য বলেন, “আমি তো অবাক হয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু আমি দেখলাম এ সব আমি যত্ন করতে পারব না। বুদ্ধ তখন মুখ্যমন্ত্রী। আর ও একটু এ সব ব্যাপারে শৌখিন। ওঁকে দিয়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু বাঁচানো যায়নি গাছটাকে।” এরপর মহিলাকে উপদেশ দেন, “ভাতের ফ্যান ঠাণ্ডা করে গাছের গোড়ায় সার হিসেবে দেওয়া ভাল। আমরা অনেকেই জানি না!”
বিমান বসু এসেছেন শুনে ততক্ষণে বেশ কিছু তরুণ মাঠ থেকে রাস্তায় উঠে এসেছেন। তাঁদের সঙ্গেও জমাটি গপ্প করলেন বিমান। কাউকে জিজ্ঞেস করলেন আলে সরষে দিয়েছে কি না। ওই তরুণ না বলায় বিমান হাত নেড়ে বলে ওঠেন, “তাহলে বাড়ির সরষেটা বাইরে থেকে কিনতে হবে তো!”
অনেকেই তখন পকেট থেকে মোবাইল বের করে নিয়েছেন। ছবি তুলছেন বিমান বসুর। কিন্তু কিছুটা ভয়ে ভয়েই! কারণ তারাপীঠের স্মৃতি এখনও টাটকা। রেগে গিয়ে দলীয় কর্মীর হাত থেকে মোবাইল ফেলে দিয়েছিলেন কয়েক সপ্তাহ আগে। এর মধ্যেই আরামবাগের এক সিপিএম কর্মী কিছুটা নরম গলাতেই বলেন, ‘বিমান দা! ওরা আপনার সঙ্গে একটা ছবি তুলতে চায়!” সঙ্গে সঙ্গে বিমানের জবাব, “যত খুশি ছবি তুলুক। আমার কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু নো সেলফি। সেলফি মানেই সেলফিশ। আর সেলফিশদের সঙ্গে আমার আড়ি আড়ি আড়ি......!”
https://www.youtube.com/watch?v=Mo7AxIYJsqM&feature=youtu.be
আরও পড়ুন-
https://www.four.suk.1wp.in/news-state-angry-biman-pushes-party-worker-uses-filthy-words-against-journalists/