দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুক্রবার বিকেলেই নির্দেশিকা জারি করেছিল নবান্ন। যেমন সব ধর্মঘটের আগে করে। আগামী ৮-৯ জানুয়ারি দেশ জোড়া সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন ও ফেডারেশন -সমূহ। সার্কুলার জারি করে নবান্ন জানিয়ে দিয়েছে, ৭-১০ জানুয়ারি কোনও সরকারি কর্মচারী ছুটি নিতে পারবেন না। বিকেল গড়িয়ে সন্ধে হয়েছে কী হয়নি! ময়দানে নেমে পড়ল সিপিএমের শিক্ষক সংগঠন নিখিল বঙ্গ শিক্ষক সমিতি (এবিটিএ)। তথ্য দিয়ে, আইন উল্লেখ করে প্রচার শুরু করে দিল, ওই সার্কুলার দিয়ে সরকার কিস্যু করতে পারবে না।
পয়েন্ট ধরে ধরে সরকারি নির্দেশিকাকে চ্যালেঞ্জ করেছে এবিটিএ। কী হলে কী হয় বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার আসার পর থেকে আদৌ কতটা কী হয়েছে, খোলসা করে বলা হয়েছে তাতে। এবিটিএ-সহ বাম সরকারি কর্মচারীদের বিভিন্ন সংগঠন এখন চেষ্টা করছে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে তথ্য সম্বলিত তাদের বক্তব্য রাজ্যের ন’লক্ষ কর্মচারীর ‘ইনবক্সে’ পৌঁছে দিতে।
আসুন দেখে নেওয়া যাক সরকারি নির্দেশিকায় কী বলা হয়েছে, আর বামেদের দাবি কী-
ওই ইস্তাহারের শুরুতেই বলে দেওয়া হয়েছে ১৯৮০ সালে জ্যোতিবাবু ১৯৮০ সালে আইন করেছিলেন, সমস্ত রাজ্য সরকারি কর্মচারীর ইউনিয়ন করার অধিকার আছে। তার মধ্যে ধর্মঘটের অধিকারও রয়েছে। বামেদের দাবি, ১৯৮০-এর ওই আইন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার বাতিল করেনি।
নবান্ন থেকে জারি করা নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ধর্মঘটের দিন কাজে না যোগ দিলে, কাটা যাবে একদিনের বেতন, সমস্যা হবে প্রোমোশনেও। সেই সঙ্গে বলা হয়েছে (প্রতিবারের মতোই) চাকরি জীবন থেকে একদিন ছেদ হবে। ২০১১ সালে রাজ্যে পালাবদলের পর প্রথম ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছিল, ২০১২ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি। বামেদের দাবি, ওই দিন থেকে এ পর্যন্ত যতগুলি ধর্মঘট হয়েছে তাতে অংশ নেওয়া কারও সার্ভিস ব্রেক বা কর্মচ্ছেদ হয়নি। এক কোঅর্ডিনেশন কমিটির নেতা বলেন (বন দফতরে কর্মরত ছিলেন), “আমার অবসরের দিন ছিল ২০১৬ সালের ৩১ মার্চ। তার আগে আমি তিনটি ধর্মঘটে অংশ নিয়েছিলাম। নির্ধারিত দিনেই অবসর নিয়েছি। চাকরি জীবনে কোনও ছেদ বা সার্ভিস ব্রেক হয়নি। আটকায়নি প্রোমোশনও।”
তবে এবিটিএ-এর ওই ইস্তাহারে স্পষ্ট বলা হয়েছে, খুব বেশি হলে সরকার এক দিনের বেতন কাটতে পারে। এ ব্যাপারে ওই ইস্তেহারে বলা হচ্ছে, রাজ্য সরকার যে পরিমাণ মহার্ঘভাতা বকেয়া রেখেছে, তাতে হিসেব করলে দেখা যাচ্ছে প্রতিটি সরকারি কর্মচারী এক মাস কাজ করে তিন সপ্তাহের বেতন পাচ্ছেন। গোটা বক্তব্য আগামী কয়েকদিনে রাজ্যের সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে নেমেছে বামেরা। এই ইস্তেহারকে হাতিয়ার করেছেন বর্ষীয়ান সিটু নেতা তথা সিপিএম কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শ্যামল চক্রবর্তীও। ফেসবুকে আবেদন জানিয়েছেন, প্রত্যেক সরকারি কর্মচারীর কাছে এই ইস্তাহার পৌঁছে দিতে।
যদিও শাসক দলের এক মুখপাত্রের কথায়, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যে কর্মসংস্কৃতি ফিরিয়ে এনেছেন। ওরা যে ভাবেই প্রচার করুক না কেন, কর্মচারীরা তাতে বিশেষ আমল দেবেন না। স্কুল, কলেজ, অফিস, আদালত, সবই থাকবে সচল।”