
শেষ আপডেট: 7 November 2020 13:03
তাৎপর্যপূর্ণ হল, রাজ্যের বর্তমান শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস বামফ্রন্ট সরকারের সময় যে সমস্ত পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে সরব ছিল, তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন হুমায়ূন কবীর। কিন্তু ২০১১ সালে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর আবার ছবিটা বদলাতে থাকে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে পাঠান মুর্শিদাবাদ জেলার পুলিশ সুপার করে। সে সময়ে আবার অধীর চৌধুরীরা তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে শুরু করেন। অধীরবাবুদের অভিযোগ ছিল, তৃণমূলের জেলা সভাপতির মতো আচরণ করছেন হুমায়ুন। মুর্শিদাবাদে তৃণমূলের দল চালাচ্ছেন হুমায়ুন। কংগ্রেস ভাঙানো থেকে শুরু করে বিরোধীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা সাজানো সবেরই নেপথ্যে রয়েছেন তিনি। পরে তাঁকে চন্দননগরের পুলিশ কমিশনার করে পাঠায় নবান্ন।
হুমায়ুনের স্ত্রী অনিন্দিতা দাস কবীর বর্তমানে বর্ধমান অ্যাপোলোর অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর পদে কর্মরত। শাসক দলের একটি সূত্রের মতে, বিধানসভা ভোটে তাঁকে প্রার্থী করা হতে পারে। এদিন তিনি তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর বিরোধী শিবিরের অনেকেই ভ্রুকুটি করেছেন। তাঁদের কথায়, স্বামী পুলিশ অফিসার হলেও ব্যক্তিগত ভাবে অনিন্দিতার অবশ্যই অধিকার রয়েছে রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার। কিন্তু এ ঘটনায় কোথায় যেন হুমায়ুন কবীরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে।
এদিন অনিন্দিতা ছাড়াও কয়েক জন প্রাক্তন আইপিএস অফিসার যোগ দেন তৃণমূলে। সিঙ্গুর আন্দোলনে যে কয়েকজন আধিকারিকের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি সোচ্চার ছিলেন মমতা, তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন সত্যজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি আজ তৃণমূলে সামিল হন। তা ছাড়া প্রাক্তন পুলিশকর্তা সরোজ গজমীর, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, ভুবন চন্দ্র মন্ডল, দেব কুমার মুখোপাধ্যায়, দীপঙ্কর চক্রবর্তী, বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী ও দীপক কুমার দাস তৃণমূল পতাকা হাতে তুলে নেন।
প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী এ ব্যাপারে বলেন, আমরা তো বরাবরই বলেছি, পুলিশ দিয়ে তৃণমূল দলটা চালান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ সব ঘটনায় সেটাই প্রমাণ হয়ে যাচ্ছে।