দ্য ওয়াল ব্যুরো: গরু পাচারের তদন্তে সপ্তাহ দেড়েক আগে বসিরহাটের ব্যবসায়ী আবদুল বারিক বিশ্বাসের বাড়িতে হানা দিয়েছিল সিবিআই। তারপর বৃহস্পতিবার তাঁকে পাঁচ ঘণ্টা জেরা করে কেন্দ্রীয় তদন্ত এজেন্সি। সূত্রের খবর, বারিক বিশ্বাসের জবাবে সন্তুষ্ট নয় সিবিআই। ফের তাঁকে ১২ ফেব্রুয়ারি নিজাম প্যালেসে হাজিরা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
সিবিআই সূত্রে জানা যাচ্ছে, এনামুল হকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগ ছিল বারিকের। প্রভাবশালীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা, পাচারকারীদের আশ্রয় দেওয়ার কাজ করতেন তিনিই। তদন্ত এজেন্সি সূত্রে এও জানা যাচ্ছে, বৃহস্পতিবারের হাজিরায় বহু প্রশ্নের উত্তর তিনি এড়িয়ে গিয়েছেন।
তাঁর ভাই গোলাম বারিক বিশ্বাস ছিলেন তৃণমূলের উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের শিল্প ও সড়ক কর্মাধক্ষ্য। এর আগে বিএসএফ এবং শুল্ক দফরের হাতে বেশ কয়েকবার গ্রেফতার হয়েছিলেন এই প্রভাবশালী ব্যবসায়ী। কিন্তু কোনও ক্ষেত্রেই বেশিদিন জেলে থাকতে হয়নি তাঁকে। জামিন হয়ে গিয়েছিল অল্প দিনেই। সাদায় ব্যবসা চালাতে তিনি ইট ভাঁটা চালান, পিছনে চলে গরু পাচারের কারবার।
এবার সেই বারিকই সিবিআইয়ের আতস কাচের নীচে। অভিযোগ, বারিক বিশ্বাস শুধু গরু পাচারের সঙ্গে যুক্ত তা নয়, সোনা, মাদক, আগ্নেয়াস্ত্র, বিভিন্ন রাসায়নিক, ইলেকট্রনিক্স পণ্য, খাদ্য সামগ্রী, বস্ত্র, জ্বালানী তেল এমন কি ওষুধ পাচারেও তাঁর নাম রয়েছে।
বিরোধীদের অভিযোগ, উত্তর চব্বিশ পরগনায় এক দাপুটে নেতার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বারিক। সেই ছত্রচ্ছায়ায় থেকেই তাঁর বাড় বৃদ্ধি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, বাম জমানাতেই চোরা কারবার শুরু বারিকের। সিপিএমের অনেক নেতার হাত তাঁর মাথায় ছিল। তবে বাম জমানায় বারিকের রাজনৈতিক যোগ ছিল একেবারে গোপনে। কাকপক্ষী টের পেত না। কিন্তু ২০০৮ সালের পঞ্চায়েত ভোটে বামেদের হারের শুরু দেখেই শিবির বদল শুরু করেন বারিক। ক্রমশ তৃণমূলের ঘনিষ্ঠ হয়ে পড়েন। তাঁর ভাইকে ২০১৩-র ভোটে জেলা পরিষদে প্রার্থী করে বড় দায়িত্ব দেয় তৃণমূল কংগ্রেস।
বিরোধীদের কথায়, ভাইকে শিখণ্ডি করেই প্রশাসনকে যথেচ্ছ ভাবে ব্যবহার করতেন বারিক। সিবিআই মনে করছে, গোটা পাচার প্রক্রিয়া একই সুতোয় গাঁথা। এনামুল এখনও জেল হেফাজতে। তাঁর ডায়েরি উদ্ধার করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও প্রভাবশালীদের নাম পাওয়া গেছে বলে কেন্দ্রীয় তদন্ত এজেন্সির দাবি।