দ্য ওয়াল ব্যুরোঃ ফের একবার সামনে এল হাসপাতালের বেহাল দশা। ফের কাঠগড়ায় হাবড়া হাসপাতালের অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা। করোনা আক্রান্ত রোগীকে রেফার করার পরেও পাওয়া গেল না অ্যাম্বুল্যান্স। আর তার জেরে হাসপাতালের বাইরেই পড়ে থেকে মৃত্যু হল এক করোনা আক্রান্ত রোগীর।
সূত্রের খবর, হাবড়ার এক করোনা আক্রান্ত মহিলার শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় তাঁকে হাবড়া হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু সেখান থেকে তাঁকে রেফার করা হয় কলকাতার হাসপাতালে। রেফার করার পরেও অ্যাম্বুল্যান্স আসেনি। ফলে হাসপাতালের বাইরেই পড়ে থাকতে হয় মহিলাকে, এমনটাই অভিযোগ করেছেন তাঁর পরিবার। তাঁদের অভিযোগ, হাসপাতালের গাফিলতিতেই মৃত্যু হয়েছে ওই রোগীর।
মহিলার পরিবারের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা নাগাদ হাবড়া হাসপাতালে নিয়ে আসা হয় ওই রোগীকে। আধ ঘণ্টার মধ্যেই তাঁকে কলকাতার হাসপাতালে রেফার করা হয়। কিন্তু অ্যাম্বুল্যান্সের দেখা মেলেনি। বারবার অনেক বলেও কোনও ব্যবস্থা হয়নি। অবশেষে বিকেল ৪টে নাগাদ ওই রোগীকে নিয়ে যাওয়ার জন্য অ্যাম্বুল্যান্স আসে। কিন্তু ড্রাইভার নাকি পিপিই কিট পরতে আরও ২০ মিনিট লাগিয়ে দেন। বিকেল সাড়ে ৪টে নাগাদ হাসপাতালের বাইরেই মৃত্যু হয় ওই মহিলার।
পরিবারের অভিযোগ, বিনা চিকিৎসাতেই মারা গিয়েছেন ওই মহিলা। যদি সঠিক সময়ে অ্যাম্বুল্যান্স আসত, তাহলে ওই মহিলাকে বাঁচানো সম্ভব হত বলে অভিযোগ করেছেন তাঁরা। এই বিষয়ে তাঁরা স্বাস্থ্য কমিশনের কাছে অভিযোগ করবেন বলে জানিয়েছেন।
এর আগেও হাবড়াতে একই ধরনের ঘটনা দেখা গিয়েছে। গত ৪ সেপ্টেম্বর হাবড়ার নতুনহাট বাজার এলাকার বাসিন্দা মনোয়ারা বিবিকে নিয়ে রাত একটা নাগাদ হাবড়া হাসপাতালে যান তাঁর পরিবারের লোকজন। ৫৫ বছরের মনোয়ারা বিবির জ্বর ও শ্বাসকষ্ট থাকায় চিকিৎসকদের সন্দেহ হলে সঙ্গে সঙ্গে করোনার র্যাপিড টেস্ট করা হয় রোগীর। সেই রিপোর্ট পজিটিভ আসে।
এর পরেই ওই রোগীকে রেফার করে দেওয়া হয় অন্য হাসপাতালে। রোগীর পরিবারের লোকজন সঙ্গে সঙ্গে সরকারি স্বাস্থ্য দফতরের কন্ট্রোলরুমে যোগাযোগ করে অ্যাম্বুল্যান্স জোগাড় করার চেষ্টা করেন। অভিযোগ, কয়েক ঘণ্টা কেটে গেলেও অ্যাম্বুল্যান্স আসে না। পরিস্থিতি ক্রমে খারাপের দিকে যেতে থাকে ওই মহিলার।
শেষে রাত সাড়ে তিনটে নাগাদ মনোয়ারা বিবির মৃত্যু হয় এবং অ্যাম্বুল্যান্স এসে পৌঁছয় ভোর চারটের পরে। তাঁর পরিবারের অভিযোগ, সময়মতো অ্যাম্বুল্যান্স পেলে হয়তো তাঁদের মাকে বাঁচানো যেত। স্বাস্থ্য বিভাগের গাফিলতির দিকে আঙুল তোলে পরিবার।