দ্য ওয়াল ব্যুরো: সেই কোন কালের কথা! তখন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টচার্য, শিল্পমন্ত্রী নিরুপম সেন, পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অশোক ভট্টাচার্য। কিন্তু তাঁরা এখন কোথায়? নিরুপমবাবু প্রায় অথর্ব। বুদ্ধবাবুর দৃষ্টিশক্তি ক্রমশ ম্লান হচ্ছে। আর অশোকবাবু এখন শুধুমাত্র শিলিগুড়ি নিয়েই থাকেন। কিন্তু সেই সময়ের পাকানো জটে করুণ অবস্থা বর্তমান পূর্ব বর্ধমানের জেলা শাসক অনুরাগ শ্রীবাস্তবের। আদালতের নির্দেশে কপালে নাচছে জেলের ভাত!
অধিগৃহীত জমির দাম না মেটানোয় পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসককে জেলে ভরার নির্দেশ দিল বর্ধমানের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা আদালত। বিচারক শেখ মহম্মদ রেজা বৃহস্পতিবার এই নির্দেশ দেন। আগামী সোমবার জেলাশাসককে সশরীরে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেদিনই তাঁকে বর্ধমান কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে পাঠানো হবে। একমাস জেল খাটতে হবে তাঁকে।
ঠিক কী কারণে এমন কড়া আদালত?
জানা গিয়েছে ২০০৫-২০০৬ সালে পূর্ব বর্ধমানের গোদাতে স্যাটেলাইট টাউনশিপ করার জন্য জমি অধিগ্রহণ করে তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার। গোদার বাসিন্দা আব্দুল আজিজ, আব্দুল আলিমের ১ একর ৭৩ শতক জমি অধিগ্রহণ করে রাজ্য সরকার। শতকপিছু ৫ হাজার ৮৮৬ টাকা দাম নির্ধারণ করে সরকার। কিন্তু তাতে আপত্তি জানিয়ে আদালতে যান জমির মালিকরা। আদালত শতক পিছু ৩৫ হাজার টাকা দাম দেওয়ার নির্দেশ দেয়। সেই অনুযায়ী জমির মালিকের পাওনা হয় ১ কোটি ৩৪ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকা। এছাড়াও দাম না মেটানো পর্যন্ত বার্ষিক ১৫ শতাংশ সুদ দিতে বলে আদালত। ২০১২ সালে এই নির্দেশ দিলেও এখনও তা মেটানো হয়নি। বর্তমানে সরকারের কাছে জমির মালিকের পাওনার পরিমাণ ১ কোটি ৯২ লক্ষ টাকা। তার জেরেই এ দিনের এই নির্দেশ।
জেলাশাসক অনুরাগ শ্রীবাস্তবকে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আদালতের নির্দেশ হাতে পাইনি। পেলে তা নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।