দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাড়ির অমতে বিয়ে করেছিলেন তাঁরা। সমাজের কথা ভেবে অবশ্য ঘর বাঁধা হল না। বাঁকুড়ার ইন্দাসে বিয়ের রাতেই আত্মঘাতী হলেন নবদম্পতি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দেখাশোনা করেই বছর কয়েক আগে বাঁকুড়ার রসুলপুর শেখপাড়ার বাসিন্দা আগমনী বাগদির বিয়ে হয়েছিল ইন্দাসের বনপুকুর গ্রামের এক যুবকের সঙ্গে। মাস ছয়েক আগে তাঁর স্বামী রোগে ভুগে মারা যান। বিধবা হয়ে যান বছর কুড়ির আগমনী। তারপরে বাপের বাড়ি রসুলপুরে ফিরে যান। সেখানেই তিনি থাকতেন।
সমাজের বাধা ও নিষেধকে উপেক্ষা করেই বনপুকুর গ্রামের বছর বাইশের প্রসেনজিৎ মাঝির সঙ্গে প্রণয়ে বাঁধা পড়েন তিনি। প্রেমের জেরে বিধবা আগমনীকে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন প্রসেনজিৎ মাঝি। জানা গেছে, ছেলের বাড়ি থেকে বলা হয়েছিল এখনই বিয়ে না করতে। নিজে বাড়ি-ঘর করে তখন যেন তিনি বিয়ে করেন। এব্যাপারে মেয়ের বাড়ির কী মত তা জানা যাচ্ছে না। আগেও বিষয়টি নিয়ে তাঁরা প্রতিবেশীদের সঙ্গে আলোচনা করেননি। এখনও এ নিয়ে তাঁরা মুখ খুলছেন না। এলাকা সূত্রে জানা গেছে, এই সম্পর্ক নিয়ে প্রথম থেকেই আপত্তি ছিল উভয় পরিবারের।
এই অবস্থায় শুক্রবার বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়ে আগমনী ও প্রসেনজিৎ গোপনে বিয়ে করেন। সেই ছবি হোয়াটসঅ্যাপ করে নিকট আত্মীয় ও বন্ধুদের প্রসেনজিৎ পাঠিয়ে দেন বলে জানা গেছে। কিন্তু তার পরে শনিবার সকালে যুগলের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়।
বিয়ে তো হল কিন্তু সমাজ মেনে নেবে তো? তখন কী হবে তাঁদের? অন্যের বাঁকা চাহনির কথা ভেবে সম্ভবত দু’জনে এক সঙ্গে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। শনিবার সকালে বনপুকুর গ্রামের পাশে পুকুরের পাড়ে একটি গাছে একই ওড়নার ফাঁস লাগানো অবস্থায় ওই যুগলকে ঝুলতে দেখেন স্থানীয়রা। খবর দেওয়া হয় ইন্দাস থানায়। পরে পুলিশ গিয়ে যুগলের মৃতদেহ উদ্ধার করে বিষ্ণুপুর হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
মেয়েটির বাপের বাড়ির লোকজন, ছেলেটির বাড়ির লোকজন ও উভয়ের প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলে প্রাথমিক ভাবে পুলিশও মনে করছে সমাজের কথা মনে করেই আত্মঘাতী হয়েছেন ওই যুগল। তাঁদের মনে আশঙ্কা ছিল সমাজ তাঁদের দিকে বাঁকা চোখে তাকাবে।
বিধবা বিবাহ আইন পাশ হয়েছিল উনবিংশ শতকে কিন্তু একবিংশ শতকে এসেও দেখা যাচ্ছে আইন হলেও এই দেড় শতকেও সমাজ এখনও এগোতে পারেনি। সমাজের ভয়ে আত্মঘাতী হতে হল তাঁদের।