দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর ২৪ পরগনাঃ দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল তাদের। দু’জনে চেয়েছিল বিয়ে করতে। কিন্তু বাড়ির লোক মানতে চায়নি। তাই একসঙ্গে আত্মহত্যা করল তারা। এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার গাইঘাটা ব্লকের ধর্মপুর ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। সেখানকার হাসপুর গ্রামের বাসিন্দা বিমল বিশ্বাসের ছেলে বিনোদ বিশ্বাস ও পাশের শিমুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা জুরন সরকারের মেয়ে পিয়া সরকারের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিনোদের বয়স ২২ বছর ও পিয়ার বয়স ১৪ বছর। বেশ কয়েক বছর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে জানিয়েছেন গ্রামের বাসিন্দারা।
সূত্রের খবর, সম্প্রতি দু’জনে ঠিক করেছিল বিয়ে করবে। এই নিয়ে দু’জনেই বাড়িতে কথা বলেছিল। বিনোদের বিয়ের বয়স হলেও পিয়া নাবালিকা হওয়ার দু’জনের বাড়ি থেকেই এই বিয়ে মেনে নেয়নি বলে খবর। বিয়ে মেনে না নেওয়ায় বিনোদ ও পিয়া সিদ্ধান্ত নেয় একসঙ্গে আত্মহত্যা করবে।
জানা গিয়েছে, শনিবার সকালে বিনোদের ঘরের দরজা অনেকক্ষণ ধরে বন্ধ ছিল। বাড়ির লোকের সন্দেহ হওয়ায় দরজা ভেঙে দেখা যায় ভিতরে বিনোদ ও পিয়ার দেহ ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছে। পিয়া কখন বিনোদের ঘরে এসেছিল সেই বিষয়ে বিনোদের বাড়ির লোকেরা কিছু জানেন না বলেই জানিয়েছেন।
একসঙ্গে দু’জনের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হওয়ার পরেই খবর দেওয়া হয় গাইঘাটা থানায়। ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছয় গাইঘাটা থানার পুলিশ। তাঁরা দেহদুটিকে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠান। শুধুমাত্র পরিবারের লোকেরা বিয়েতে সম্মত না হওয়ার কারণেই বিনোদ ও পিয়া আত্মহত্যা করল নাকি এর পিছনে অন্য কোনও কারণও রয়েছে তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। কথা বলা হচ্ছে দুই পরিবারের লোকেদের সঙ্গে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গেও কথা বলছে পুলিশ। এভাবে দুটি মৃতদেহ উদ্ধার হওয়ায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকায়।