দ্য ওয়াল ব্যুরো: লকডাউনের কারণে উচ্চমাধ্যমিকের যে তিনটি পরীক্ষা স্থগিত হয়েছিল সেগুলি পুনরায় নেওয়ার জন্য জুলাই মাসের তিনটি তারিখ নির্ধারিত করেছিল রাজ্য সরকার। শুক্রবার শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় জানিয়ে দেন, ওই তিনটি পরীক্ষা বাতিল করা হচ্ছে। তারপর এও বলেন, বাতিল হওয়া পরীক্ষার নম্বর বিধি কী হবে তা নিয়ে উচ্চমধ্যমিক শিক্ষা সংসদ আলোচনা করছে। শুক্রবার বেশি রাতে.সে ব্যাপারে বিজ্ঞপ্তি জারি করে সংসদ।
কী ভাবে হবে বাতিল পরীক্ষায় মূল্যায়ন?
যে লিখিত পরীক্ষাগুলি হয়ে গিয়েছে, তার মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বরকেই এই তিনটি পরীক্ষার নম্বর হিসেবে ধরা হবে। অর্থাৎ, যদি বিজ্ঞান বিভাগের কোনও ছাত্র সম্পন্ন হওয়া পরীক্ষাগুলির মধ্যে ইংরাজিতে ৭৫ পায় তাহলে বাকি থাকা পদার্থ বিদ্যা, রসায়ন বা অঙ্কের ক্ষেত্রেও ৭৫-ই দেওয়া হবে।
কিন্তু কোনও ছাত্র বা ছাত্রী তো মনে করতেই পারে, তার যা প্রস্তুতি তাতে ওই তিন পরীক্ষায় আরও বেশি নম্বর সে পেতে পারে। সে ক্ষেত্রে?
শিক্ষা সংসদ জানিয়েছে, তাদের জন্যও পথ খোলা থাকছে। কোন বিষয়ে সে এমনটা মনে করছে সেটা জানিয়ে ছাত্রছাত্রীদের স্কুলে আবেদন করতে হবে। তারপর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হবে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই তা হবে বলে জোরের সঙ্গে জানিয়েছে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ।
সংসদের তরফে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা সম্পন্ন পরীক্ষার সর্বোচ্চ নম্বরের ভিত্তিতে বাতিল পরীক্ষার নম্বর দেওয়ার বিষয়টি দ্রুত শেষ করা হবে। এবং চেষ্টা করা হবে যাতে জুলাই মাসেই উচ্চমাধ্যমিকের ফল প্রকাশ করা যায়।
তবে সংসদের এই সিদ্ধান্ত নিয়েও ছাত্রছাত্রী এবং অভিভাবকদের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, এখন যদি গৃহীত পরীক্ষার সর্বোচ্চ নম্বরের ভিত্তিতে বাতিল পরীক্ষার নম্বর দেওয়া হয় এবং পরে যদি একজন ছাত্র বা ছাত্রী আবেদন করে পরীক্ষা দিয়ে বেশি নম্বর পায় তাহলে ভর্তি প্রক্রিয়া কীসের ভিত্তিতে হবে?
এক অভিভাবকের কথায়, উচ্চমাধ্যমিকের ফল প্রকাশ হলেই কলেজগুলিতে অনলাইন ভর্তি শুরু হবে। দেখা যাবে সর্বোচ্চ হারে নম্বর দেওয়ায় একজন ছাত্র অঙ্কে ৭৫ পাচ্ছে। পরে যদি আবেদন করে সে পরীক্ষা দেয় এবং তখন যদি সে ৯০ পায় তাহলে কী হবে? ভর্তির সময় তো সে ভাল কলেজে সুযোগই পাবে না। পরবর্তী সময়ে কি শিক্ষা দফতর সেই সুযোগ করে দেবে? যদিও এ ব্যাপারে শিক্ষামন্ত্রী শুক্রবার সুস্পষ্ট করে কিছু বলেননি।