দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনাভাইরাসের আতঙ্কে রাজ্যের একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাতিল করল পরীক্ষা ও সেমিনার। দেশের বিভিন্ন রেল স্টেশনে সাময়িক ভাবে বায়োমেট্রিক হাজিরা বন্ধ রাখা হচ্ছে। বায়োমেট্রিক হাজিরা বন্ধ রাখা হয়েছে খড়্গপুর রেল কারখানাতেও।
খড়্গপুর রেলওয়ে ওয়ার্কশপে আপাতত খাতায়-কলমে সই করেই হাজিরা দিতে হবে কর্মীদের। এটি শুধু ভারতের নয় এশিয়ার সবচেয়ে বড় রেল কারখানাগুলির অন্যতম। রেলের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন সংস্থার কর্মীরা। দেশজুড়ে যেভাবে করোনাভাইরাস সংক্রমণের আতঙ্ক তৈরি হয়েছে সেকথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেল।
রেলবোর্ডের তরফে আগেই একটি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হয়েছে যে নয়াদিল্লি-সহ দেশের সব বড় শহরের রেল স্টেশনে আপাতত বন্ধ রাখা হচ্ছে বায়োমেট্রিক হাজিরা। মার্চ মাসের অ্যাটেনডেন্স রোল ইতিমধ্যে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট স্টেশনগুলিতে।
খড়্গপুর আইআইটিতে সমস্ত পঠনপাঠন স্থগিত রাখা হয়েছে। ৩১ মার্চ পর্যন্ত কেবলমাত্র অনলাইন পঠনপাঠন চালু থাকবে। বাতিল করে দেওয়া হয়েছে সমস্ত সেমিনার, ওয়ার্কশপ ও কনফারেন্স। ক্যাম্পাসের মধ্যে থাকা পড়ুয়াদের ক্যাম্পাসের বাইরে না যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আইআইটি কর্তৃপক্ষ।
বাড়তি সতর্কতামূলক পদক্ষেপ করেছে বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ও। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মীদের বায়োমেট্রিক হাজিরা। ৩১ মার্চ পর্যন্ত কর্মীদের হাজিরা দিতে হবে হাজিরা খাতায়। গণ জমায়েত এড়ানোর জন্য সমস্ত রকম জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সেমিনার স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
করোনাভাইরাস রুখতে ১৪ মার্চ থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত সমস্ত পরীক্ষা বাতিল করেছে বিশ্বভারতী। বিদেশি পড়ুয়া ছাড়া সমস্ত পড়ুয়াকে হস্টেল ছাড়তে বলা হয়েছে। এর আগে ৫ মার্চ সাবধানতা অবলম্বন করার জন্য নির্দেশিকা পাঠিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। তখন স্থগিত রাখা হয় বসন্তোৎসব।
১৩ মার্চ বিশ্বভারতী করোনাভাইরাস নিয়ে জরুরি বৈঠক করে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী, সমস্ত ভবনের অধ্যক্ষ, কর্মসচিব, পরীক্ষা বিভাগের আধিকারিক, পিয়ারসন মেমোরিয়াল হাসপাতালের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক প্রমুখ।
এই বৈঠকে সকলের সম্মতিতে সব সিদ্ধান্ত হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৪ মার্চ থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত যেসব স্কুল-পরীক্ষা নির্ধারিত ছিল তা পরবর্তী বিজ্ঞপ্তি জারি পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। ৩১ মার্চ এব্যাপারে পর্যালোচনার পরে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে। ৩০ মার্চ পর্যন্ত হস্টেল বন্ধ থাকবে। যাঁরা এখন হস্টেলে নেই তাঁদেরও ৩০ মার্চ পর্যন্ত ফিরতে নিষেধ করা হয়েছে। সমস্ত ক্লাস বাতিল করা হয়েছে বলেও সূত্রের খবর।
পাঠভবন ও শিক্ষাসত্রে মাধ্যমিক পরীক্ষা চলছিল। ১২ মার্চ বাংলার প্রথম পত্র পরীক্ষা হয়। ১৪ মার্চ ছিল বাংলা ভাষার দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা।