দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা সংক্রমণ রুখতে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসাবে কাল বৃহস্পতিবার থেকে বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে তারকেশ্বর মন্দির। প্রশাসনের থেকে নির্দেশ পাওয়ার পরে মন্দির খোলা হবে বলে জানিয়ে দিয়েছেন তারকেশ্বর মঠের প্রধান সুরেশ্বর আশ্রম মহন্ত মহারাজ। পুণ্যার্থীদের ঢুকতে দেওয়া না হলেও এখানে নিত্যপুজো চলবে যথারীতি।
গাজনমেলা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত মঙ্গলবারই জানিয়েছিলেন তারকেশ্বর মঠ কর্তৃপক্ষ। আজ জানানো হল পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে মন্দিরও। সুরেশ্বর আশ্রম মহন্ত মহারাজ বলেন, “করোনা ভাইরাসের জেরে দেশের কথা চিন্তা করে এবং মন্দির কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে আপাতত মন্দির বন্ধ রাখার সিন্ধান্ত হয়েছে। আগামিকাল থেকে মন্দিরে পুণ্যার্থীদের প্রবেশ বন্ধ করা হচ্ছে। মন্দিরের সমস্ত ফটক বন্ধ করে চেন তালা লাগিয়ে দেওয়া হবে। তবে বাবা তারকনাথের নিত্যপূজো চলবে।”
পরে তিনি বলেন, “মেলা যাবে আবার আসবে তবে যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে তা থেকে মানুষকে রক্ষার জন্য আপাতত গাজন মেলা স্থগিত রাখা হয়েছে। গর্ভমন্দিরে পুজো ও প্রবেশ বন্ধ রাখা হল ভক্তদের জন্য। আগামী দিনে পরিস্থিতির উন্নতি হলে তখন পুনরায় সকলের জন্য মন্দির খোলা হবে। চৈত্রের গাজন মেলা শেষ হওয়ার আগেই যদি জানা যায় যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক তা হলে আবার গাজন মেলা শুরু হবে। আমি সকলের কাছে আবেদন করছি যে নিজের সুরক্ষার জন্য সবাই এই শৈবতীর্থে আসা যেন কিছুদিনের জন্য বন্ধ রাখেন।” ঈশ্বরের কাছে সকলের সুস্থ জীবন প্রার্থনা করছেন বলেও তিনি জানান।
করোনা সংক্রান্ত সতর্কতার জন্য আগেই বেলুড় মঠ কর্তৃপক্ষ মন্দিরে দর্শনার্থী নিয়ন্ত্রণ করেছে। সেইমতো কামারপুকুর ও জয়রামবাটিতেও পুণ্যার্থীদের নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। সন্ধ্যারতির সময় সমবেত হওয়া বন্ধ করা হয়েছে।
রাজ্যের আরও বেশ কয়েকটি মন্দিরেও পুণ্যার্থীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নবদ্বীপ ও মায়াপুর। ভোগ বিতরণ বন্ধ করা হয়েছে বিভিন্ন মন্দিরে। যেসব ধর্মস্থানে এখনও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়নি সেখানেও জমায়েত এড়াতে খুব কম লোকই যাচ্ছেন।
জমায়েত এড়াতে তারকেশ্বরের গাজনই শুধু নয় বন্ধ করা হয়েছে অগ্রদ্বীপের মেলা এবং নবদ্বীপের দশম দোল পরিক্রমা। করোনা নিয়ে এখন সতর্ক পুরো রাজ্য।