
শেষ আপডেট: 18 March 2020 07:06
বিষ্ণুপুরে হোটেল ফাঁকা[/caption]
ট্রেকার-জাতীয় গাড়িতে চেপে অনেকেই বিষ্ণুপুর থেকে কাছাকাছি দর্শনীয় জায়গাগুলো ঘুরে আসেন। তাঁরা মুশকিলে পড়েছেন। অনেকে রিকশা ও টোটোয় চেপে শহরের মন্দির ঘুরে দেখেন। টোটোচালক ও রিকশাচালকরাও সমস্যায় পড়েছেন পর্যটক কমে যাওয়ায়। এখনই যে পর্যটক আসা একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে এমন নয় তবে যেভাবে হোটেলে বুকিং বাতিল হচ্ছে তাতে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পর্যটকের সংখ্যা তলানিতে ঠেকবে বলে আশঙ্কা করছেন পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত লোকজন। পর্যটক কমে গেলে মার খাবে অনুসারী শিল্পও।
যাঁরা বিষ্ণুপুরে বেড়াতে আসেন তাঁরা এখান থেকে হস্তশিল্পও সংগ্রহ করেন। এখানের প্রধান হস্তশিল্প হল বালুচরী ও স্বর্ণচরী শাড়ি। দশাবতার তাস বা গঞ্জিফা মূলত বিষ্ণুপুরেরই জিনিস। ১২০টি তাসের খেলা হলেও যাঁরা বেড়াতে আসেন তাঁরা এখান থেকে দশটি অবতার আঁকা দশটি তাস সংগ্রহ করে থাকেন। এখানে শাঁখের তৈরি জিনিসও বিখ্যাত। বিষ্ণুপুর ও পাঁচমুড়ায় পাওয়া যায় বাঁকুড়ার ঘোড়া, বোঙাহাতি ও মাটির শাঁখ যা বাজানো যায় সামুদ্রিক শাঁখের মতো করেই। এইসব অনুসারী হস্তশিল্পের ব্যবসাও মার খাচ্ছে। শীতের মরসুম ছাড়া এই সময়টিতেই তাঁদের ব্যবসা ভাল হয়।
বাঁকুড়া জেলার জয়রামবাটিতে সারা বছরই পুণ্যার্থীদের সমাগম লেগেই থাকে। হুগলির কামারপুকুরের পরে জয়রামবাটিতেও করোনার সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসাবে অনির্দিষ্ট কালের জন্য মঙ্গলারতির সময় নাটমন্দিরে ভক্তদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে মাতৃমন্দির কর্তৃপক্ষ। সন্ধ্যারতির পরে পাঠ বন্ধ রাখার পাশাপাশি মাতৃমন্দিরে দলবদ্ধ ভাবে ঢোকা যাবে না বলেও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
[caption id="attachment_196893" align="aligncenter" width="1280"]
পুণ্যার্থী নেই জয়রামবাটিতেও[/caption]
মাতৃমন্দির কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন এখানে আসা নিয়মিত দর্শনার্থীরা। তবে অনেকে বিরূপ মন্তব্যও করছেন। তাঁরা বলছেন যে মহামারির সময় নিজে হাতে আর্তদের সেবা করেছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ স্বয়ং কিন্তু তাঁর প্রতিষ্ঠিত মিশন সে ব্যাপারে উদ্যোগী হচ্ছে না। জয়রামবাটি মাতৃমন্দিরের স্বামী যুগেশ্বরানন্দ বলেন, “করোনা সতর্কতা হিসেবে বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ আমরা করেছি। ভক্তদের ভিড় না করার আবেদন জানিয়েছি।”
পুণ্যার্থী ও পর্যটকের সংখ্যা কমে যাওয়ায় এখানেও অখুশি ব্যবসায়ীরা। থাকার ও খাবার হোটেল মার খাচ্ছে। স্থানীয় অনেকে এখানে গাইডের কাজ করে সামান্য রোজগার করেন। তাঁদের সেই রোজগার বন্ধ হয়েছে।