দ্য ওয়াল ব্যুরো: কিছুটা সতর্কতা ও বাকিটা আশঙ্কা। কোথাও বন্ধ মন্দির আবার কোথাও বন্ধ রুট। কোথাও পর্যটনে নিষেধাজ্ঞা। চার মাস আগে ভোরে উঠে লাইন দিয়ে কাটা টিকিট বাতিল করতে এখন নতুন করে লাইন দিতে হচ্ছে যাত্রীদের। কারও যাওয়ার কথা কাল, কারও হয়তো দু’এক দিন পরে। কারও যাত্রা শুরু করতে বাকি সপ্তাহ খানেক। হুগলির চুঁচুড়া স্টেশনে টিকিট বাতিল করার জন্য লাইনে দাঁড়াচ্ছেন যাত্রীরা।
কেউ ভেবেছিলেন গরম পড়ার আগেই রাজস্থান ঘুরে আসবেন। কারও পরিকল্পনা ছিল কাশ্মীর আবার কারও কন্যাকুমারিকা। করোনা সংক্রান্ত সতর্কতার জন্য এখন অনেকেই শেষ মুহূর্তে বাতিল করছেন বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনা। অনেকের আবার বেরিয়ে পড়ার ইচ্ছা থাকলেও পারছেন না বেড়াতে যেতে কারণ যেখানে যাবেন ভেবেছিলেন সেই রাজ্যের সরকার নির্দিষ্ট জায়গায় জনসমাগম নিষিদ্ধ করে দিয়েছে। তাই ভোর থেকে কাউন্টারে দাঁড়িয়ে কপাল জোরে পছন্দের লোয়ার বার্থের টিকিটটা বাতিল করে দিতে হচ্ছে শেষ বেলায়। যাত্রীদের কেউ কেউ বলছেন, “বেড়াতে যাওয়া মাথায় থাক। প্রাণে বাঁচলে ভবিষ্যতে আবার বেড়াতে যেতে পারব।”
অনেকে বেড়াতে যান কোনও না কোনও তীর্থস্থানের কথা মাথায় রেখে। যেমন হরিদ্বারে বেড়াতে যাওয়া মানেই অনেক মন্দির দর্শন। তিরুপতি, জগন্নাথ, রণছোড়জি, উত্তরাখণ্ডের চারধাম – এসব জায়গায় পর্যটন পুরোপুরি ধর্মস্থান-নির্ভর। কোথাও মন্দির বন্ধ তো কোথাও জমায়েত বন্ধ। হয়তো এখনও বন্ধ হয়নি কিন্তু ট্রেন থেকে নেমে হয়তো দেখতে পাবেন সেটি বন্ধ করার নির্দেশ এসেছে। অনেক অভয়ারণ্য বন্ধ। আবার অনেক জায়গায় পুরাতাত্ত্বিক স্থান, জাদুঘর এসব বন্ধ। সোজা কথায় বেড়াতে গিয়ে লাভ নেই। তাই ট্রেনের টিকিট বাতিল করছেন যাত্রীরা।
অনেকে চিকিৎসার তারিখও পিছিয়ে দিচ্ছেন। এখনই না গেলেও চলবে এমন ক্ষেত্রে রোগীর পরিবার দক্ষিণ ভারতে যাওয়া বাতিল করছেন। ফলে হাওড়া থেকে চেন্নাই ও বেঙ্গালুরুতে যাওয়ার বহু টিকিট বাতিল হচ্ছে।
রেল কর্তৃপক্ষ এখনও কোনও হিসাব না দিলেও শুধু চুঁচুড়া স্টেশনে খোঁজ নিয়ে জানা গেল যে দিনে দেড়শো থেকে দুশো জন আসছেন টিকিট বাতিল করতে। গত শনিবার থেকে এই হিড়িক লক্ষ্য করা যাচ্ছে। জানা গেছে শুধু চুঁচুড়া স্টেশনের কাউন্টার থেকেই কয়েক লক্ষ টাকার ট্রেনের টিকিট বাতিল করা হয়েছে। এমনও হচ্ছে যে টিকিট বাতিল করার পরে যাত্রীকে টাকা ফেরত দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না কাউন্টারে টাকা নেই বলে। টাকা না থাকায় ওই কাউন্টারে থাকা ব্যক্তি টিকিট বাতিল করতে রাজি না হলে অন্য কাউন্টারে আবার লাইন দিতে হচ্ছে। অনেকে আবার টিকিট জমা দিয়ে অপেক্ষা করছেন কতক্ষণে টাকা জমবে কাউন্টারে তবে টাকা ফেরত পাবেন।
ট্রেনের নিয়ম অনুযায়ী যাত্রার সময় যত এগিয়ে আসে তত বেশি অঙ্কের টাকা কেটে নেয় রেল। তাই যাঁদের যেতে ৪৮ ঘণ্টার বেশি দেরি আছে তাঁদের ক্ষেত্রে শ্রেণী অনুযায়ী ৬০ টাকা থেকে ২৪০ টাকা পর্যন্ত কেটে নেওয়া হয়। যাত্রা শুরুর ৪৮ ঘণ্টা থেকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে টিকিট বাতিল করলে কেটে নেওয়া হয় ভাড়ার ২৫ শতাংশ। তার পরে টিকিট বাতিল করলে কেটে নেওয়া হয় ৫০ শতাংশ। ওয়েটিং লিস্ট হলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টিকিট বাতিলের ক্ষেত্রে কোনও টাকা কাটা হয় না।