দ্য ওয়াল ব্যুরোঃ সপ্তাহের কাজের দিনে বিজেপির যুব মোর্চার নবান্ন অভিযানকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল কলকাতা ও হাওড়া। পুলিশ ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে খণ্ডযুদ্ধ চলল বেশ কয়েক ঘণ্টা ধরে। একদিকে যেখানে পুলিশের দিকে লক্ষ্য করে উড়ে এল ইঁট, কাঁচের বোতল, অন্যদিকে তেমনই আন্দোলনকারীদের থামাতে কাঁদানে গ্যাস, জলকামান ব্যবহার করল পুলিশ। আর এই জলকামানেই দেখা গেল অভিনবত্ব। বেগুনি রংয়ের জল ছুটে যেতে দেখা গেল। আর তারপরেই চাপানউতোর শুরু হয়েছে এই জলের রং নিয়ে।
ঘটনার পরে বিজেপির রাজ্য দফতর মুরলীধর সেন স্ট্রিটে বসে বিজেপি যুব মোর্চার সর্বভারতীয় সভাপতি তেজস্বী সূর্য বলেন, “বিজেপি কর্মীদের দিকে কেমিক্যাল মেশানো জলকামান ব্যবহার করা হয়েছে। পৃথিবীর অনেক জায়গায় ঠান্ডা বা গরম জল ব্যবহার হলেও কোথাও কেমিক্যাল মেশানো জলকামান ব্যবহার হয় না। যাঁদের শরীরে লেগেছে, শরীর পুড়িয়ে দিয়েছে। এই কেমিক্যালে কী ছিল? তদন্ত চাই? রাজ্য সরকারের কাছে আমি তদন্তের দাবি করছি। এমনকি কেন্দ্রের কাছেও আমি এই বিষয়ে আবেদন জানাব।”
বিজেপির এই অভিযোগের কিছুক্ষণ পরেই ভবানীভবনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন রাজ্যের মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়। তখন তাঁকে বিজেপির এই অভিযোগের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে আলাপন বলেন, “ওটা হোলির রং। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে এই রংয়ের ব্যবহার হয়। পরবর্তীকালে কাউকে চিহ্নিত করার প্রয়োজন পড়লে এই রংয়ের সাহায্যে তা সহজেই করা যায়। আইনের মধ্যে থেকেই এর ব্যবহার করা হয়েছে।”
ঠিক কী হয়েছিল?
এদিন বিজেপির তরফে চারটি মিছিল যাচ্ছিল নবান্নের দিকে। তার মধ্যে হাওড়া ময়দান থেকে যে মিছিলটি এগিয়ে আসছিল তাকে ব্যারিকেড করে আটকায় পুলিশ। সেই ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করেন বিজেপি কর্মীরা। আর তারপরেই দেখা যায়, জলকামান ছাড়া হয়েছে। কিন্তু জলকামানের রং দেখে প্রথমে খানিকটা চমকে যান সবাই। সাধারণ জলের রং নয়, বেগুনি রংয়ের জল।
বিজেপির অভিযোগ এই জলকামানের আঘাতে অসুস্থ হয়ে পড়েন অনেক কর্মী। বিজেপি নেতা রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখা যায় অসুস্থ হয়ে রাস্তার উপরেই শুয়ে আছেন। তাঁর শুশ্রূষার চেষ্টা করছেন কর্মীরা। পরে তাঁকে অ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে খবর। এই রংয়ে কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করে বিজেপি। তদন্তের দাবি জানিয়েছে তারা। যদিও রাজ্য প্রশাসনের তরফে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হল, কোনও কেমিক্যালের ব্যবহার হয়নি, ওটা হোলির রং ছিল।