দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: সোশ্যাল মিডিয়ায় গত দু’বছর ধরে লাগাতার পোস্ট। তাতে আক্রমণ করা হয়েছে জলপাইগুড়ি জেলা স্বাস্থ্য দফতরকে। জোট বেঁধে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে নেমেছেন জেলার চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। অভিযোগ, জেলা স্বাস্থ্য দফতরকে হেয় করার জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে লাগাতার ভুয়ো পোস্ট করে যাওয়া হচ্ছে। আইন মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে আটটি সংগঠন বৃহস্পতিবার এক যোগে জেলাশাসককে স্মারকলিপি দিয়েছে। অভিযোগ জানানো হয়েছে সাইবার থানাতেও।
গ্রিন জলপাইগুড়ি নামে জেলার এক সেচ্ছাসেবী সংগঠন সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিযোগ করে আসছে, জলপাইগুড়ি কোভিড হাসপাতালের রোগীদের নিম্ন মানের খাবার দেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘ দিন ধরে এমন আরও নানা অভিযোগ তোলা হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। এর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার জলপাইগুড়ি থ্যালাসেমিয়া ইউনিটে প্রথমে সাংবাদিক বৈঠক করে তৃণমূল প্রভাবিত প্রোগ্রেসিভ ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন সমেত মোট আটটি সংগঠন। পরে ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন, প্রোগ্রেসিভ ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন, প্রোগ্রেসিভ ফার্মাসিস্ট অ্যাসোসিয়েশন, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারি কর্মচারী ফেডারেশন, ওয়েস্ট বেঙ্গল প্রোগ্রেসিভ মেডিক্যাল টেকনোলজি অ্যাসোসিয়েশন, নার্সিং ইউনিটি, প্রোগ্রেসিভ ন্যাশনাল রুরাল হেলথ মিশন, ফিজিওথেরাপিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা মিলে জলপাইগুড়ি জেলাশাসক দফতরে যান। ওই সমস্ত পোস্ট ভুয়ো ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিযোগ জানান। এর বিরুদ্ধে যথাযথ তদন্ত করে ওই সংগঠন এবং তাদের এক সদস্য অঙ্কুর দাসের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে জেলাশাসককে স্মারকলিপি দেন।
জলপাইগুড়ি হাসপাতালের সুপার গয়ারাম নস্কর বৃহস্পতিবার বলেন, “গ্রিন জলপাইগুড়ি নামে একটি সেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং এদের এক সদস্য অঙ্কুর দাস স্বাস্থ্য দফতরের বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় গত দু’বছর ধরে লাগাতার ভুয়ো প্রচার চালাচ্ছেন। এর ফলে আমাদের চিকিৎসক এবং অন্য স্বাস্থ্যকর্মীরা সামাজিক ভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এর ফলে তাঁদের সম্মানহানি হচ্ছে। তাই আমরা আজ জেলাশাসকের দফতরে গিয়ে গ্রিন জলপাইগুড়ি নামে ওই সংগঠন এবং তাদের এক সদস্য অঙ্কুর দাসের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে গেলাম। এদের বিরুদ্ধে সাইবার থানাতেও অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।”
অভিযোগের প্রেক্ষিতে অঙ্কুর দাস বলেন, “স্বাস্থ্য পরিষেবা সংক্রান্ত বিভিন্ন খামতি এবং বিভিন্ন সময়ে রোগীদের পাঠানো অভিযোগ আমরা সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলে ধরেছি। প্রয়োজনে তদন্ত হোক। পাশাপাশি সত্য উদ্ঘাটনের জন্য এখানে জনতার আদালত বসালেই প্রকৃত ঘটনা সামনে আসবে। আমি সত্যি কথা বলতে ভয় পাই না।”