কংগ্রেসের সংখ্যালঘু বিধায়ক যোগ দিলেন তৃণমূলে, জিততে পারবে না বললেন অধীর
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিরোধী শিবির থেকে ফের এক বিধায়ক যোগ দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসে।
শনিবারের বারবেলায় বাদুরিয়ার কংগ্রেস বিধায়ক কাজি আবদুল রহিমের হাতে তৃণমূলের পতাকা তুলে দিলেন দলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তিনি কংগ্রেসের প্রয়াত নেতা গফ্ফর সাহেব
শেষ আপডেট: 7 November 2020 09:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিরোধী শিবির থেকে ফের এক বিধায়ক যোগ দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসে।
শনিবারের বারবেলায় বাদুরিয়ার কংগ্রেস বিধায়ক কাজি আবদুল রহিমের হাতে তৃণমূলের পতাকা তুলে দিলেন দলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তিনি কংগ্রেসের প্রয়াত নেতা গফ্ফর সাহেবের ছেলে। এলাকায় দিলু মিঞাঁ বলে পরিচিত।
বাংলায় বিধানসভা ভোট আসন্ন। বলা যেতে পারে তার আগে আজ শনিবার থেকেই শুভ মহরৎ হয়ে গেল শেষ লগ্নের ভাঙাগড়ার খেলা। এদিন তৃণমূল ভবনে পার্থ চট্টোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম, সুখেন্দুশেখর রায়ের উপস্থিতিতে চলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'উন্নয়নের কর্মযজ্ঞে' শামিল করার পর্ব।
বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা আবদুল মান্নান অবশ্য প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, ‘উন্নয়ন যজ্ঞ না ছাই.. লোভ দেখিয়ে বিরোধী দলের বিধায়ক ভাঙাচ্ছে। কিন্তু এই খেলা থেকে পার পাবে না তৃণমূলও!’
সে যাক। এই চাপানউতোরের বাইরে আজকের ‘জয়েনিং’-এর একটা রাজনৈতিক অঙ্ক রয়েছে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকদের একাংশ। তাঁদের মতে, ভাল করে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, কংগ্রেস-সিপিএমের সংখ্যালঘু বিধায়কদের ভাঙাতে চাইছে তৃণমূল। কারণ তৃণমূল হয়তো বুঝতে পারছে বিধানসভা ভোটে ধর্মীয় মেরুকরণ হতে পারে। তাই সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে আসন নিশ্চিত করতে চাইছে। যাতে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত আসনে সিপিএম-কংগ্রেসের জোট কোনও ভাগ বসাতে না পারে।
এর আগে বর্ধমান পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান তথা একদা বর্ধমান শহরের দাপুটে বাম নেতা আইনুল হক তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন। যদিও আইনুলকে সিপিএম বহিষ্কার করার পর তিনি বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। গেরুয়া শিবিরে যোগ দেওয়ার বছর খানেকের মধ্যেই তিনি তৃণমূলে ফিরে আসেন। তারপর বসিরহাট উত্তরের তৃণমূল বিধায়ক রফিকুল ইসলাম মণ্ডল সিপিএম ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন গত মাসে।
রফিকুল ষোলর ভোটে টিকিট না পেয়ে তৃণমূল ছাড়েন। সুযোগ কাজে লাগাতে রাতারাতি তাঁকে কমরেড হিসেবে গ্রহণ করে প্রার্থী করে দেন গৌতম দেব, নেপালদেব ভট্টাচার্যরা। সেই রফিকই ফের পুরনো দলে ফিরে যান। তা ছাড়া ফরওয়ার্ড ব্লক বিধায়ক আলি ইমরান রামজ তথা ভিক্টরকেও তৃণমূল প্রস্তাব দিয়েছিল বলে শোনা গিয়েছিল।

এই দলবদলের ঘটনা নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী বলেন, “দিলুকে অনেক দিন ধরেই ওরা টোপ দিচ্ছিল শুনেছি। যদিও দিলু আমাকে বলেছিল, না না দাদা কোথাও যাচ্ছি না। তবে ভাল হয়েছে ভোটের আগে গেছে। কারণ, এমনিতেও ওখানকার সিপিএম নেতা-কর্মীরা বলছিলেন জোট হলে দিলুর জন্য ভোট করতে পারবেন না। কারণ ও এলাকায় জনপ্রিয়তা হারিয়েছে।” এক নিঃশ্বাসে অধীরবাবু আরও বলেন, আবদুল রহিমের সঙ্গে কোনও লোক নেই। লিখে রাখুন ভোটে ওই আসন কংগ্রেসই জিতবে।
কাজি আবদুল রহিম ছাড়াও বিজেপির মহিলা মোর্চার সহ সভাপতি মৌমিতা বসু চক্রবর্তী, প্রাক্তন সাংসদ রাধিকারঞ্জন প্রামাণিকের ছেলে তথা আর্ট কলেজের প্রাক্তন অধ্যাপক শান্তনু প্রামাণিক সহ আরও কয়েকজন এদিন যোগ দেন শাসকদলে।