দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত এক সপ্তাহ যাবৎ তৃণমূলের মুখপাত্ররা সাংবাদিক বৈঠক করে অভিযোগ করছেন, বিজেপির অবাঙালি নেতারা বাংলাকে শাসন করতে চাইছেন। শাসকদলের তরফে এও বলা হচ্ছে, বঙ্গ বিজেপির নেতাদের উপর দিল্লির ভরসা নেই বলেই ইম্পর্টেড নেতাদের বাংলায় আনছে। বঙ্গ রাজনীতিতে যখন বাঙালি-অবাঙালি ইস্যু মুখ্য হয়ে উঠছে তখন তা নিয়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে চাঁচাছোলা সমালোচনা করলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরী।
রবিবার অধীরবাবু বলেন, "বিজেপি যেমন রাজনীতিতে হিন্দু-মুসলমান দিয়ে মেরুকরণ করছে তার পাল্টা তৃণমূল বাঙালি-অবাঙালি করছে। আসলে তৃণমূলের সামনে এ ছাড়া আর কোনও উপায় নেই। কীই বা বলবে মানুষকে!"
এরপরই বহরমপুরের সাংসদ প্রশ্ন তুলে বলেন, "শুধু বাঙালিআনা দিয়ে বাঙালির পেট ভরবে কি? পেট ভরাতে গেলে রুটি, রুজি, শিল্প, কারখানা, কর্মসংস্থান প্রয়োজন। বাংলায় সেসব কোথায়? তৃণমূলের জমানায় তামাম বাংলার যে স্খলন হয়েছে সেটাকে ঢাকতেই শাসকদল আজকে বাঙালি-অবাঙালি করছে।"
কয়েকদিন আগেই নেতাজির জন্মদিবসকে জাতীয় ছুটি ঘোষণা করা ও সুভাষচন্দ্র বসুর অন্তর্ধান রহস্য নিয়ে রিপোর্ট সর্বসমক্ষে আনার দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি লিখেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সমালোচকদের অনেকেই সেসময় বলেছিলেন, নেতাজিকে নিয়ে বাঙালির আবেগ উস্কে দিতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই চিঠি লিখেছেন। এ ব্যাপারে লোকসভায় কংগ্রেস দলনেতা বলেন, "নির্বাচন এলেই তৃণমূলের নেতাজির কথা মনে পড়ে। কই রাজ্য সরকার তো একটা প্রকল্পের নামও নেতাজির নামে রাখেনি। শুধু এই শ্রী আর ওই শ্রী!"
প্রাক্তন রেল প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, "কলকাতা বন্দরের নাম নেতাজির নামে ছিল। তা পাল্টে দেওয়া হয়েছে। কই তখন তো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাস্তায় নামেননি! রাজীব কুমারের জন্য যিনি রাস্তায় নামতে পারেন নেতাজির জন্য তিনি নামলেন না কেন? আসলে আগে ছিল সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়দের বাংলা,এখন হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাংলা। আগে ছিল নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর বাংলা হয়েছে আরাবুল ইসলামের বাংলা। কেষ্ট থেকে আরাবুল, এই তো হল তৃণমূল!"